সিপিএমের আমলে কাগজ ছিল না! নিয়োগ দুর্নীতিতে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার বার্তা মমতার
সিপিএমের আমলে কাগজ ছিল না! নিয়োগ দুর্নীতিতে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার বার্তা মমতার
নিয়োগ দুর্নীতিতে এবার কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতিতে এবার নিশানা করলেন সিপিএমকে। তৃণমূলের আমলে দুর্নীতি হয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েই তিনি তির ছুঁড়লেন সিপিএমের দিকে। তাঁর সাফ কথা, সিপিএমের আমলে কাগজ ছিল না, তাই ধরা পড়েনি দুর্নীতি।

সিপিএমের আমলে কোনও কাগজ ছিল না
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমকে একহাত নিয়ে জানান, ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর দেখেছি, সিপিএমের আমলে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কাগজ বা নথি নেই। আমরা অনেক চেষ্টা করেও কোনও কাগজ খুঁজে পাইনি, কোনও আলমারিও পাইনি। আসলে ওঁদের আমলে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কাগজই ছিল না। তাই ওদের দুর্নীতি চাপা পড়ে গিয়েছে।

সব কাগজ আছে, তাই দুর্নীতি ধরা পড়ছে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কোনও রাখঢাক না করেই বলে দিলেন, আমাদের আমলে সব কাগজ আছে। তাই দুর্নীতি ধরা পড়ছে। বিশ্ববাংলা প্রাঙ্গনে শিক্ষক দিবসে শিক্ষারত্ন প্রদান অনুষ্ঠান থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, একজনের ভুল দিয়ে সবার বিচার না করতে। নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী যখন জেল হেফাজতে তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

দুর্নীতি ঢাকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিমুখী কৌশল
শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের তৃণমূল সরকার ঘোরতর বিপাকে। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিমুখী কৌশল নিলেন। প্রথমত তিনি দুর্নীতির ব্যাখ্যায় এটা ব্যক্তিগত ভুলের কথা বললেন। আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন নিয়োগের ঘোষণায়। কৌশল করে তিনি সময়ও চেয়ে নিলেন চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে। একইসঙ্গে তিনি আক্রমণ শানালেন বাংলার পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার তথা সিপিএমকে।

বিজেপিকে নিশানা করতেও পিছপা হননি মমতা
অবশ্য বিজেপিকে নিশানা করতেও তিনি পিছপা হননি। এ রাজ্যে সিপিএমের পাশাপাশি তিনি মধ্যপ্রদেশের ব্যাপম কেলেঙ্কারি নিয়েও সরব হন। বলেন, মধ্যপ্রদেশের এডুকেশন মিনিস্টারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এখনও। ব্যাপম কেলেঙ্কারির জেরে ৫৪ জন সুইসাইড করেছিল মধ্যপ্রদেশে। কিন্তু তার কী হয়েছে, কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।

সঙ্গদোষে খারাপ, পার্থর নাম না করে বার্তা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, অনেক ভালো লোকও সঙ্গদোষে খারাপ হয়ে যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি বলেন, আমি কত টাকার মালিক হলাম, এটা আমার পরিচয় নয়। টাকা কারও চিরকাল থাকে না। আজ টাকা আছে কাল নেই।

হান্ড্রেড পার্সেন্ট কন্ট্রোল করা অসম্ভব
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কথা তুলে বলেন, আপনারা যদি বলেন, আপনি হান্ড্রেড পার্সেন্ট কন্ট্রোল করতে পারবেন? না, আমার পক্ষে হান্ড্রেড পার্সেন্ট কন্ট্রোল করা সম্ভব নয়। ভগবানও হান্ড্রেড পার্সেন্ট কন্ট্রোল করতে পারে না। আমি কে, একজন সাধারণ মানুষ। আমার কী ক্ষমতা আছে।

নেতাজি ও জাস্টিস গাঙ্গুলির কথায় ভুলের ব্যাখ্যা
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন রাইট টু মেক ব্লান্ডার্স। অর্থাৎ ভুল করাটাও মানুষের অধিকার। আর জাস্টিস অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি রায়ের প্রসঙ্গে তুলে মমতা বলেন, যদি কোনও ক্ষেত্রে দেখো কেউ একটা ভুল করছে বা একটা ভুল হয়ে গিয়েছে, তাহলে সেটাকে রেক্টিফাই করে নাও। সিপিএমের আমলে বড় একটা স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারি হয়েছিল, উনি সেটাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications