তিনিই সেনাপতি, ২১-এর পর ২৪-এও প্রমাণ করলেন অভিষেক, কাঁধে হাত রেখে সার্টিফিকেট মমতারও
Abhishek Banerjee: কাজ করল না শুভেন্দু ম্যাজিক! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই আস্থা রাখল বাংলার মানুষ। ২০১৯ সালের ফলাফলকেও চমক দিয়ে বড় উত্থান শাসকদল তৃণমূলের। আর এহেন ফলাফলের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কার্যত গত দেড় বছর ধরে লাগাতার রণকৌশল বানিয়েছেন তিনি (Abhishek Banerjee)। বাংলার প্রত্যেক লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রচারের রণকৌশল। সবটা একা হাতে তৈরি করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।

কার্যত বড় দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। আর সেই দায়িত্বে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন অভিষেক। তা বুঝিয়ে দিলেন মমতাও। বাংলার ২৯ টি আসনে তৃণমূলের জয় স্পষ্ট হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেককে পাশে রাখেন তিনি। এমনকি বৈঠক শেষে অভিষেকের কাঁধে 'আস্থা'র হাত রেখে ভিকট্রি সাইন দেখাতেও দেখা যায়। আগামীদিনে অভিষেকই কী দল চালাবেন? সেই ইঙ্গিত মিলছে নেত্রীর কথাতে।
সালটা ২০১১। বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটা বছর। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটে। সেই বছর তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই সময় দলের যুবনেতা হিসাবে প্রচারের মধ্যেই নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর পাশে থেকেই নিজেকে তৈরি করতে থাকেন। কখনও ধর্না তো কখনও আন্দোলন। ধীরে ধীরে দলের মুখ হয়ে ওঠেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির বড় উত্থান। এক লাফে ১৮ টি আসন জয়।
যা কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। সেই সময় দলের একেবারে বড় ভূমিকায় সামনে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট কৌসুলি প্রশান্ত কিশোরকে সামনে রেখে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঘুঁটি সাজান অভিষেক। তাঁর উপর ভরসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এন্ড কোং। নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী সহ দলের একাধিক বড় নেতার দলবদল। প্রবল বিজেপি ঝড়ে তৃণমূলের উত্থান বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অভিষেকের কাছে।
সেই নির্বাচনে তৃণমূলের অভাবনীয় জয় হয়। ৭৭ আসনে আটকে যায় বিজেপি। মুখ থুবড়ে পড়ে বিজেপির সমস্ত কৌশল। এজন্য অভিষেককে পুরস্কৃতও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সর্বভারতীয় পদ দেওয়া হয় তাঁকে। বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বড় ভূমিকা ছিল অভিষেকের। কিন্তু পদ দিলেও একাধিক সিদ্ধান্ত ঘিরে দলের মধ্যে প্রশ্নের মধ্যে পড়ে যান। বিশেষ করে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব ঘিরে দলের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। এহেন পরিস্থিতিতে কিছুটা নিজেকে গুটিয়ে নেন অভিষেক।
কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে একেবারে পুরোদমে প্রচারে নেমে পরেন তিনি। সেনাপতির ভূমিকায় দেখা যায়। নির্বাচনে দলের প্রচার পরিকল্পনা, স্লোগান বাছাইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এমনকি 'জনগণের গর্জন, বিরোধীদের বিসর্জন' এহেন স্লোগান অভিষেকের মাথা থেকেই বের হয়। আর তা সুপার হিট হয়। শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লাগাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রচার করেন।
প্রচারে কোন বিষয়কে তুলে ধরা হবে তা নিয়ে দীর্ঘ রিসার্চ করেন। সেই পরিশ্রমের ফল হাতেনাতে পেল দল। সমস্ত বুথফেরত সমীক্ষাকে ফেল করে আরও একবার বাংলায় যে সিগন্যাল গ্রিন তা প্রমাণ করলেন। অনেকেই বলছেন, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে যেভাবে অভিষেক বাংলায় কাজ করছেন তা কোনও অংশে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের কম নয়।












Click it and Unblock the Notifications