Madhyamik Result: 'ডাক্তার হতে চাই', মাধ্যমিকে প্রথম আদৃত জানাল সাফল্যের মূলমন্ত্র
প্রকাশিত হয়ে ২০২৫ মাধ্যমিকের ফলাফল। পরীক্ষা শেষের ৭০ দিনের মাথায় ফলপ্রকাশ করা হল। এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৫৩ জন। আর এতজনকে কার্যত পিছনে ফেলে এবছর মাধ্যমিকে প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে রায়গঞ্জের ছেলে আদৃত সরকার। যার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬।
আদৃত রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের ছাত্র। এই স্কুল থেকে এবছর আর রযাঙ্কও হয়েছে। স্বাভাবিক এত ভাল ফলাফলে খুশি গোটা স্কুল। আর আদৃত সরকার প্রথম হওয়ায় কার্যত স্কুলে এখন বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। উত্তর দিনাজপুরের এই কৃতীর বাড়িতেও এখন ভিড় জমিয়েছে সকলে। বাড়ির লোকেরা যেমন আদৃতর মা-বাবা আজ ছেলের এতবড় সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। আর আদৃত নিজেও তার এই সাফল্য ভীষণ খুশি।

পড়াশোনায় বরাবরই মনোযোগী আদৃত। সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। তবে তার কথায়, ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনও বিষয়ে আগ্রহ জন্মায়, সেদিকেও মনোযোগ দিতে সে প্রস্তুত। তাঁর পড়াশোনা করতেই ভাল লাগে। তাই সেই ভাবে কোন বিষয়ে বেশি জর দেবে তেমনটা কখনই ভাবেনি সে।
আজ সকালে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে ফলাফল প্রকাশ করার সময় থেকেই আদৃতের বাড়িতে ছিল উত্তেজনা আর টান টান অপেক্ষা। প্রথম হওয়ার খবর মিলতেই পরিবারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খুশির হাওয়া।
নাম ঘোষণার পর থেকেই একটানা ফোন আর শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছে আদৃত। অনেকেই তাকে উপহার দিয়েছেন, কেউ আবার নিজে এসে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আদৃতও হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলছে, ভাগ করে নিচ্ছে তার আনন্দ।
আদৃত এখনও জানেনি কোন বিষয়ে কত নম্বর পেয়েছে, তবে জানিয়েছে যে বিজ্ঞান তার বরাবরই প্রিয় বিষয়। ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই সে এগোচ্ছে। তবে জীবন তাকে অন্য দিকে টেনে নিয়ে গেলে সেখানেও সে প্রস্তুত মনোভাবেই এগোতে রাজি। তাঁর পছন্দের বিষয় বায়োলজি। আর অবসর সময়ে সাহিত্য চর্চা করতে ভালবাসে সে।
আগামী দিনে যারা মাধ্যমিক দিতে চলেছে তাঁদের জন্যে আদৃতের কী বার্তা?
আদৃত ছোট ভাই-বোনেদের জন্যে বলেছে, পড়াশোনা ভালবেসে কর, তাহলে সব বিষয়ই সহজ হবে। কোনও বিষয়ে ভয় থাকবে না। আর বছরের শুরু থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করে যাও তাহলে শেষের দিকে গিয়ে কোনও মানসিক চাপ তৈরি হবে না।
আদৃত এই ভাবেই অল্প অল্প করে পড়াশোনা করে আজ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। রায়গঞ্জবাসীর কাছে আজকের এই দিনটি গর্বের। আদৃতের এই কৃতিত্ব শুধু তার পরিবার নয়, গোটা জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।












Click it and Unblock the Notifications