মাধ্যমিকে অনুত্তীর্ণ লাখের উপর পড়ুয়া, ঢালাও MCQ সত্ত্বেও কেন এত 'ফেল'? যা বললেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার
Madhyamik Result 2025: মাধ্যমিকে গতবারের তুলনায় সামান্য বাড়ল পাসের হার। চলতি বছরে মাধ্যমিকে পাসের হার ৮৬.৫৬ শতাংশ। গতবার যা ছিল ৮৬.৩১ শতাংশ। তবে এবারেও অকৃতকার্য হয়েছে বহু পড়ুয়া। পর্ষদের পরিসংখ্যান বলছে, ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৯৫ জন পড়ুয়া ফেল করেছে ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায়। গত বারের তুলনায় সংখ্যাটা কমলেও লাখের নিচে কিছুতেই নামছে না অনুত্তীর্ণদের সংখ্যা।
এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৯৪। যা গত বছরের তুলনায় ৬২ হাজারেরও বেশি। তবে এবারে অনুত্তীর্ণ প্রায় ১৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী। পরের বছর পরীক্ষায় তাদের সাফল্য কামনা করেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০২৪ সালে অকৃতকার্য হয়েছিল ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৭১৩ জন। যা প্রায় ১৪ শতাংশ ছিল। দেড় লক্ষের উপর অনুত্তীর্ণদের সংখ্যা পেরিয়ে যাওয়ায় রীতিমতো উদ্বেগে ছিল শিক্ষা দফতর।

তবে এবারেও এমনকিছু রেহাই মিলল না। লাখের উপরেই রইল অনুত্তীর্ণদের সংখ্যা। ২০২৩ সালে মাধ্যমিকে ফেল করেছিল ১ লক্ষ ১১ হাজার জন। সর্বভারতীয় বোর্ডগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এরাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও সংক্ষিপ্ত ও অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন চালু করা হয়েছিল। ঢালাও MCQ প্রশ্ন থাকার পরেও কেন এত পড়ুয়া অকৃতকার্য হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল। এদিকে সদ্য প্রকাশিত আইসিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফলে মাত্র ১ শতাংশ পড়ুয়া অকৃতকার্য হয়েছে। আইসিএসই-তে পাসের হার ৯৯.০২ শতাংশ।
কেন মাধ্যমিকে কমানো যাচ্ছে না অকৃতকার্য পড়ুয়াদের সংখ্যা? পঠনপাঠনে খামতি থেকে যাচ্ছে নাকি স্কুলমুখী করা যাচ্ছে না পড়ুয়াদের? সেব্যাপারে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারের সঙ্গে। এব্যাপারে তিনি শিক্ষা দফতরকেই কারণ অনুসন্ধান করতে হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি MCQ নয়, বরং রচনাধর্মী প্রশ্ন ও সঠিকভাবে বিষয় বিশ্লেষণের উপরেই জোর দিলেন তিনি।
শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারের মতে, "রাজ্যের মাধ্যমিক স্কুলগুলির অবস্থা খারাপ হয়েছে। অনেক জায়গায় শিক্ষক নেই। এটা যেমন একটা ব্যাখ্যা হতে পারে। তেমনই শিক্ষা ব্যবস্থায় কোথায় গাফিলতি রয়েছে তাও দেখতে হবে। প্রতিবারই সিবিএসইর সঙ্গে এই পাসের হারে ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে নম্বর দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তাও কেন এরকম হচ্ছে তার কারণ খতিয়ে দেখতে হবে শিক্ষা দফতরকেই। তবে আমি MCQ প্রশ্নের পক্ষে নই। ছেলেমেয়েরা লিখতে শিখবে না, ভাষা শিখবে না। এক্ষেত্রে ভাষাজ্ঞান দুর্বল হয়।"












Click it and Unblock the Notifications