Lok Sabha Election Results 2024: ২০০-র পর ৩০-এর ডাক! বাংলায় ফের ব্যর্থ বিজেপি, কারণ হিসেবে কী কী উঠে আসছে?
Lok Sabha Election Results 2024: ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ইসবার ২০০ পার করার স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু তারা ৭৭-এ গিয়ে আটকে যায়। আর ২০২৪-এ ৩০-এর ডাক দিয়ে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ১২ টিতে এগিয়ে রয়েছে কিংবা জয়ী হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের ভোকাল টনিকের অভাব নেই, কিন্তু বাংলায় বিজেপির ব্যর্থতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে।
কেউ কেউ বিজেপিতে অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা বলে বিষয়টিকে হাল্কা করে দিতে চাইছেন, কিন্তু এর পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

- প্রথমেই উঠে আসছে সংগঠনের কথা। গত প্রায় দেড়-দুই বছর ধরে ইডি-সিবিআই নিয়ে লাফালাফি হয়েছে। আর ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু ভোটে জিততে গেলে ইডি-সিবিআই কিংবা কেন্দ্রীয় বাহিনী না তা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের পোক্ত সংগঠন বিপুল জয় এনেছে। বিপরীতে ছত্রে ছত্রে সংগঠনে ফাঁক ফোঁকর উঠে এসেছে বিজেপির ক্ষেত্রে। বিশেষ করে ভোটের দিন শুধু ডায়মন্ডহারবার নয়, অনেক জায়গাতেই বিজেপি এজেন্ট বসাতে পারেনি।
- সংখ্যালঘু ভোটও বিজেপির পক্ষে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। বাংলায় বিজেপিকে শুরু করতে হয় ৩০ শতাংশ ভোট বাদ দিয়ে। এদিন প্রথমের দিকে দীর্ঘক্ষণ পিছিয়ে থাকা রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার স্বীকার করে নিয়েছেন, সংখ্যালঘু ভোট তাঁর কেন্দ্রে পাননি। তাঁকে নির্ভর করতে হয়েছে হিন্দু ভোটের ওপরে। রাজ্য বিজেপিতে সংখ্যালঘু মুখ তেমন উঠে আসেনি কিংবা তুলে আনা হয়নি। এছাড়াও কোনও কোনও জায়গায় বিজেপি নেতাদের নানা মন্তব্য সংখ্যালঘুদের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
- কৌশলগত ভুলেও খেসারত দিতে হয়েছে বিজেপিকে। বিজেপি যেখানে ইডি-সিবিআই তদন্ত নিয়েই কার্যত তৃণমূলের বিরুদ্ধে এগোতে চেয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূল পাল্টা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে প্রচারে সামনে নিয়ে এসেছে। এছাড়া বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগও বারে বারে তুলেছে তৃণমূল। শাসকদলের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে, এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
- রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে বিশ্বাসযোগ্য মুখের অভাব রয়েছে বিজেপিতে। শুভেন্দু অধিকারীই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। ২০২০-র একেবারে শেষের দিকে তিনি তৃণমূল ছাড়ার পরে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ২০০-র পর ৩০-এর ডাককে সফল করতে পারলেন না তিনি। পাশাপাশি বিজেপির একাংশ বলছেন, যে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে ২০১৯-এ বিজেপি ২ থেকে ১৮-তে পৌঁছয়, সেই বিজেপি নেতাকে চলে যেতে হয়েছে পিছনের সারিতে। সেই ক্ষোভ রয়েছে দলের অভ্যন্তরে।
- এছাড়াও আসন বদলও এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকে। ২০১৯-এ দিলীপ ঘোষ যে মেদিনীপুর আসনে জিতেছিলেন, এবার সেই আসন থেকে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বর্ধমান-দুর্গাপুরে। মেদিনীপুরে টিকিট দেওয়া হয় শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অগ্নিমিত্রা পালকে। তাঁরা দুজনেই হেরেছেন। অন্যদিকে বিজেপির একটি সূত্র বলছে, এবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ঘাটালে হিরণ, বর্ধমান পূর্বে অসীম সরকার, বারাসতে স্বপন মজুমদার এবং মুর্শিদাবাদে গৌরীশঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করা হয়েছিল, তাঁরা সকলেই পরাজিত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কেন প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীকে এতটা গুরুত্ব দিল?












Click it and Unblock the Notifications