ছিল দুই ব্যক্তির জোট! CPIM-এর সুজন-সেলিমকে নিশানায় বাম শরিকরা, প্রশ্ন নবীন প্রার্থীদের আচরণেও
Lok Sabha Election Results 2024: ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় সিপিআইএম ও কংগ্রেস রাজ্যে আরও ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে। সেখানে রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিআইএমকে নিশানা করেছে বাম শরিকরা। প্রসঙ্গত, রাজ্যে বাম-কংগ্রেস প্রার্থীরা প্রায় সব আসনেই তৃতীয়স্থানে। কয়েকটি আসনে আবার আইএসএফ প্রার্থীরা বাম প্রার্থীদের থেকে এগিয়ে তৃতীয়স্থান দখল করেছে। সেইসব আসনে বামেরা চলে গিয়েছে চতুর্থস্থানে।
প্রসঙ্গত ২০১৯-এর নির্বাচনে রাজ্যে সিপিআইএম ও কংগ্রেসের ভোটের হার ছিল ৬.৩৪ ও ৫.৬৬ শতাংশ। এবার তা আরও কমে হয়েছে যথাক্রমে ৫.৬৫ এবং ৪.৬৯ শতাংশ। যেখানে শরিকদের ভোটও কমেছে। (ফরওয়ার্ড ব্লকের ০.৪২ থেকে ০.২৪ শতাংশ, সিপিআই-এর ০.৪০ থেকে ০.২২ শতাংশ )

বাংলায় বামেদের এই ফলাফল নিয়ে বামেদের বড় শরিক সিপিআইএমকে নিশানা করেছে ছোট শরিকরা। আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় বলেছেন, আগের বারের মতোই এবারও কংগ্রেসের আসনগুলিতে বামেদের ভোট কংগ্রেসে গেলেও, বামেদের আসনগুলিতে কংগ্রেসের ভোট বামেদের ঝুলিতে আসেনি। কংগ্রেসের আসনগুলিতে বাম নেতারা প্রচারে গেলেও, বাম শরিকদের আসনে কংগ্রেসের রাজ্য নেতারা প্রচারে যাননি বলে অভিযোগ করেছে বাম শরিকরা।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ে বামেদের তালিকা ঘোষণায় দেরি নিয়ে শরিকরা সরাসরি সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদককে নিশানা করেছিল। আর ভোট শতাংশ আরও কমে হারের পরে তাদের নিশানায় সেই সেলিম। আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় বলছেন, একদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বাম শরিকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন, অন্যদিকে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম মুর্শিদাবাদে প্রচারে বাম শরিকদের সঙ্গে কোনও রকমের যোগাযোগ করেননি বলেও অভিযোগ করেছে বাম শরিকরা।
সেই সঙ্গে এবারে বাম-কংগ্রেসের জোট দুই ব্যক্তির জোট (অধীর চৌধুরী-মহঃ সেলিমের জোট) হয়েছিল কিনা সেই প্রশ্নও করেছে বাম শরিকরা। বাম শরিকরা শুধু সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদককেই নিশানা করেনি, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই অভিজ্ঞ মুখের দ্বিতীয়জন সুজন চক্রবর্তীকেও নিশানা করেছে।
এছাড়াও বারে বারে প্রশ্ন উঠেছে বাম প্রার্থীদের আচরণ নিয়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রার্থীরা। সংবাদ মাধ্যমে শ্রীরামপুরের সিপিআইএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধরের বেশ কিছু মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চায় বিষয়। অন্যদিকে যাদবপুরে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষের থেকে প্রায় সাড়ে চারলক্ষ ভোটে পিছিয়ে থাকা সৃজন ভট্টাচার্য প্রচারের সময় এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি সাংসদ হয়েই গিয়েছেন। তিনি ছোট সংবাদ মাধ্যমের ফোনে সাড়া দেননি বলে অভিযোগ।
এছাড়াও লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প নিয়ে অনেক বাম নেতাকে প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অসম্মানজনক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। যা বুমেরাং হয়েছে জনমানসে। বিষয়টি তৃণমূলকেই সাহায্য করেছে। অনিস বিশ্বাস সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক থাকার সময় অনেক বিষয়ই সামনে আসত না। যা তিনি নিজের দক্ষতায় আগলে রাখতেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর একের পর সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা, তারপর তো ইতিহাসে পাতায় চলে গিয়েছে বামেরা। সেই জায়গা থেকে বাংলায় বামেরা আদৌ ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে আদৌ ফেরে কিনা, কিংবা কবে ফেরে এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications