আসানসোল ও বর্ধমান-দুর্গাপুরে কাদের প্রার্থী করবে বিজেপি? তৃণমূলের হেভিওয়েটের দলবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচনের আগে কি তৃণমূল কংগ্রেসে ফের ভাঙন ধরাবে বিজেপি? অর্জুন সিং ও দিব্যেন্দু অধিকারীর দলবদলের পর চর্চায় তৃণমূলের এক হেভিওয়েটের নাম।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, পশ্চিম বর্ধমান জেলা তথা রাজ্যের ওই প্রভাবশালী নেতাকে দলে নিয়ে প্রার্থীও করতে পারে বিজেপি। যদিও বিজেপির মধ্যেই এই বিষয়ে অ্যালার্জিও রয়েছে।

বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে গত লোকসভা ভোটে জয়লাভ করেছিলেন সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। কিন্তু তাঁকে নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির অনেকেই ঠারেঠোরে বলছেন, এবারও আলুওয়ালিয়াকে প্রার্থী করা হলে ড্যাং ড্যাং করে জিতে যাবেন কীর্তি আজাদ। ফলে বাঙালি মুখকে প্রার্থী করার দাবি উঠেছে।
বাংলায় নিযুক্ত পর্যবেক্ষক-সহ বিজেপির জাতীয় স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ফিরেছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সুকান্ত বলেছেন, ২২-২৩ তারিখের মধ্যেই প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সময় পেলেই তার আগে বৈঠক সেরে নেবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি।
বর্ধমান-দুর্গাপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে অগ্নিমিত্রা পলকে দাঁড় করিয়ে আলুওয়ালিয়াকে আসানসোলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘুরপাক খাচ্ছে বিজেপির অন্দরে। কিন্তু এরই মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানে জোর চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূলের হেভিওয়েটের দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে।
বিষয়টি কানে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদেরও। কিন্তু কেউই আগ বাড়িয়ে মন্তব্য না করে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে জল মাপছেন। বিজেপির একাংশের আবার দাবি, তৃণমূল থেকে যাঁর দলবদল নিয়ে চর্চা চলছে তিনি বিজেপিতে এলে বিজেপির বিশাল লাভ হবে না। হয়তো কোনও আসনে জেতা নিশ্চিত হবে। কিন্তু তাতে তৃণমূলের হাতে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার অস্ত্র মিলতে এতটুকু দেরি হবে না।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বাংলার প্রতি বঞ্চনা নিয়ে ধরনায় বসেছিলেন মমতা। তখন বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সূত্রের খবর, সেখানেই পশ্চিম বর্ধমানের নেতা তথা রাজ্যের এক মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কথা শুনিয়েছিলেন দলনেত্রী।
তৃণমূল সূত্রে দাবি, মমতা ওই মন্ত্রীর কাছে আচমকাই জানতে চেয়েছিলেন, কেন তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন না? ওই মন্ত্রী কিছু বলার আগেই মমতা বলে দেন, কে কোথায় বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সবই তিনি জানেন। ফলে হেভিওয়েটের দলবদলের জল্পনায় ওই নেতার নামও শোনা যাচ্ছে।
সংশয় আরও বাড়ছে ওই নেতা ফোন না ধরায়। তাঁর ঘনিষ্ঠরাও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন। কেউ বলছেন না যে, যা শোনা যাচ্ছে তা ভিত্তিহীন, গুজব। তাহলেই সব জল্পনা এক নিমেষে থেমে যায়। আসানসোলে বিজেপি পবন সিংকে প্রার্থী করেছিল। তিনি তারপর জানান ভোটে লড়বেন না। ফলে তৃণমূলের হেভিওয়েট দল বদলের পর আসানসোলে বিজেপি প্রার্থী হলে তা হবে পশ্চিম বর্ধমান জেলার বড় চমক।
ইতিমধ্যেই তাপস রায়, অর্জুন সিং, দিব্যেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করেছেন। দলবদলুদের বিজেপি প্রার্থী করবে বলে জল্পনা রয়েছে। এই নেতারাই প্রকাশ্যে কিংবা ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিলেন, তৃণমূলে আরও ভাঙন ধরতে চলেছে। সেই দলবদলের হাওয়া পশ্চিম বর্ধমানে পৌঁছল কিনা তা স্পষ্ট হবে দ্রুতই। যদিও তৃণমূল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। ওই হেভিওয়েট নেতা এখন দিল্লিতে, নাকি কলকাতায় সেই তথ্য নেই তৃণমূলের অনেক শীর্ষনেতা ও মুখপাত্রদের কাছেও।












Click it and Unblock the Notifications