সারদায় হইচই হলেও বাকিদের নিয়ে চুপ কেন রাজ্য, মিডিয়া, উঠছে প্রশ্ন

স্বল্প মেয়াদে দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকী পাঁচগুণ টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন চিটফান্ড কোম্পানিগুলি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছে। অথচ টাকা ফেরত দেওয়ার সময় এখন নানা বাহানা করছে। এমন কোম্পানিগুলির এজেন্টদের একটি সংগঠন হল ফিল্ড নেটওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের তরফে সাধারণ সম্পাদক মলয় ঘোষ জানান, সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত এবং প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে শ্যামলকুমার সেন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এই কমিশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল, অন্যান্য সংস্থায় টাকা রেখে প্রতারিত হওয়া মানুষদেরও পাশে দাঁড়ানো। অথচ সেই দায়িত্ব পালন করছে না কমিশন। এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়েছে শ্যামল সেন কমিশনের কাছে। অন্তত পাঁচ লক্ষ অভিযোগ অন্যান্য ৭৩টি সংস্থার বিরুদ্ধে। বাকিটা সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নালিশ জানানো হবে বলে জানান মলয়বাবু।
এদিকে, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিচ্ছে না পৈলান গোষ্ঠী, এই মর্মে অভিযোগ উঠল। পৈলানের এজেন্টদের দাবি, ফেব্রুয়ারি থেকেই বহু মানুষের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। মার্চের দু'টি সপ্তাহ গড়িয়ে গেলেও অনেকে এখনও চাতকপাখির মতো অপেক্ষা করছেন। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, বিহার, অসম ইত্যাদি রাজ্যে ১৫ লক্ষ মানুষ টাকা রেখেছেন পৈলানে। ২০ হাজার এজেন্ট রয়েছে সংস্থার। টাকা ফেরত না পেয়ে মানুষ এখন এজেন্টদের হেনস্থা করছেন। অনেকে এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। পৈলান গোষ্ঠীর মালিক অপূর্বকুমার সাহা এখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এজেন্টরা সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। অভিযোগ, বাজার থেকে গত তিন বছরে ৯০০ কোটি টাকা তুলেছে পৈলান গোষ্ঠী। পুলিশ-প্রশাসনকে এ ব্যাপারে জানিয়ে কাজ না হওয়ায় এখন পৈলান গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছেন এজেন্টরা।
সারদা কেলেঙ্কারির সময় সব সংবাদমাধ্যম তেড়েফুঁড়ে খবর করলেও এক্ষেত্রে তারাও নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে বলে অভিযোগ এজেন্ট ও আমানতকারীদের।












Click it and Unblock the Notifications