ভোটের আগে আইনি লড়াই! ভবানীপুরে মনোনয়নের আগে হাইকোর্টে শুভেন্দু
ভোটের ময়দানে নামার আগেই ফের আইনের দরজায় কড়া নাড়লেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, আর ঠিক সেই সময়েই তিনি দ্বারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্ট।
শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা বা অভিযোগ রয়েছে সেই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ। অথচ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীকে ফর্ম ২৬ অনুযায়ী হলফনামা দিতে হয়, যেখানে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে অপরাধমূলক রেকর্ড, সম্পত্তির হিসাব, আয়ের উৎস সব তথ্য নির্ভুলভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। ফলে এই তথ্যের অভাব তাঁর জন্য আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা বিরোধী দলনেতার।

রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে শুভেন্দুর সংঘাত নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার আইনি সুরক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো অভিযোগ দায়ের করা যাবে না।
তবে সেই সুরক্ষাকবচ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত স্পষ্ট করে দেন, এধরনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা কবচ অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। ফলে আগের আইনি রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হয়। যদিও একই সঙ্গে আদালত শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫ টি মামলাকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়ে বড় স্বস্তিও দেয়।
এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় তাঁর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তারি বা কঠোর পদক্ষেপ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট।
একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও পুলিশের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আইনি ময়দানেও যে লড়াই জারি রয়েছে, তা স্পষ্ট এই পদক্ষেপেই।












Click it and Unblock the Notifications