শুনানিতে অনুপস্থিত ‘নো ম্যাপিং' ভোটারদের বড় সংখ্যা! তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা বাড়ল
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত প্রশ্নের কেন্দ্রে এবার 'নো ম্যাপিং' ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিস হাতে পাওয়ার পরও, শোনা যাচ্ছে, তিন লক্ষের বেশি ভোটার শুনানির টেবিলে হাজির হননি। ফলত তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে।
কমিশন সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৩২ লক্ষ 'নো ম্যাপিং' ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের পরিচয় ও পুরনো এসআইআর এর সঙ্গে লিঙ্ক মিলিয়ে দেখা ছিল মূল লক্ষ্য। শুনানির শেষ পর্বে এসে দেখা যাচ্ছে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার, অর্থাৎ ৩ লক্ষ ২০ হাজারের মতো মানুষ, উপস্থিত হননি।

গত ডিসেম্বরের খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় কমিশন জানায় রাজ্যজুড়ে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটারের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের শেষ এসআইআর এর সঙ্গে লিঙ্ক মেলেনি। সেই কারণেই তাঁরা 'নো ম্যাপিং' হিসেবে চিহ্নিত। প্রথম পর্যায়েই তাঁদের সবাইকে ডাকা হয় শুনানিতে।
'নো ম্যাপিং'দের পাশাপাশি যাঁদের তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে তাঁদেরও নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানির সময়সীমা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি হলেও, কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে সময়সীমা বাড়তে পারে।
কমিশনের বক্তব্য চূড়ান্ত দিনে তালিকায় নাম ধরে রাখতে হলে শুনানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও খোলা। না এলে, নিয়ম মেনেই নাম বাদ পড়বে।
সুপ্রিম কোর্টের নজরে বিষয়
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। সেই অনুসারে শনিবার প্রকাশিত হবে তালিকা। কমিশন জানিয়েছে সেই সঙ্গেই প্রকাশ হবে 'নো ম্যাপিং'দের নামের তালিকাও। মোট সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ।
গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকেই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। শুনানিতে হাজির না হওয়া ৩ লক্ষের মতো 'নো ম্যাপিং' ভোটার যদি বাতিল হয়, তবে সেই সংখ্যা লাফিয়ে পৌঁছোতে পারে ৬১ লক্ষে।
রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে এমন ব্যাপক পুনর্মূল্যায়ন বিরল। গোটা প্রক্রিয়াই এখন নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলেরও।












Click it and Unblock the Notifications