শুভেন্দুর সঙ্গে মমতার ফারাক বোঝালেন ছত্রে ছত্রে, বিশ্বাসঘাতকতার প্রশ্নে সরব কুণাল
শুভেন্দু অধিকারী একটা সময়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান হাত। শুভেন্দুকে সামনে রেখেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে মানুষের আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছিলেন মমতা। আর রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য এই আন্দোলনের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। কিন্তু শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যেতেই দু-ভাগ নন্দীগ্রাম।
এই পরিস্থিতিতে যত পঞ্চায়েত ভোট এগিয়ে আসছে, ততই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শুরু হচ্ছে বাকযুদ্ধ। বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে তরজায় শামিল দু-পক্ষই। আর এই বাকযুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোথায় ফারাক তা বোঝালেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

ছত্রে ছত্রে শুভেন্দু ও মমতার ফারক দেখিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার প্রশ্নে সরব হলেন তিনি। প্রথমেই কুণাল পরিবারতন্ত্র নিয়ে পাল্টা খোঁচা দেন শুভেন্দুকে। তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা যাচ্ছে পরিবারতন্ত্রের কথা। অধিকারী প্রাইভেট লিমিটেড সব পদ ব্যবহার করেছে৷ ওই জেলায় তো কাউকে উঠতে দেয়নি। আজকে মনে পড়ছে পরিবারতন্ত্র।
কুণাল ঘোষ বলেন, তৃণমূলকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলার আগে ভাবা উচিত কটা পদে অধিকারী প্রাইভেট লিমিটেড ছিল। বলতে শুরু করলে একটা তালিকা হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, এদিন নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়েও শুভেন্দুকে একহাত নিতে ছাড়েননি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
তিনি বলেনস নন্দীগ্রামে পুরোদস্তুর সেখানকার মানুষের আন্দোলন হয়েছিল। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন না। মমতা বন্দোপাধ্যায় একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছেন৷ আজও নন্দীগ্রাম মামলায় একাধিক ব্যক্তির নাম আছে। আর শুভেন্দু এখন মামলা ওপেন করাচ্ছে। শুভেন্দুর পাঞ্জাবির একটা সুতোও ছেঁড়েনি।

কুণালের কথায়, শুভেন্দু অধিকারী তো কোনো বাধার মুখেই পড়েননি৷ উনি তাই বামেদের গোপন এজেন্ট ছিলেন কি না সেটাই দেখা দরকার তদন্তে। তিনি বলেন, শুভেন্দুর অত্যন্ত গরম পড়েছে। তাই উল্টোপাল্টা বকতে শুরু করেছে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে দেখা যাচ্ছে। তা না হলে বলে, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
কুণাল ঘোষ বলেন, এটা কেউ বলতে পারে? মমতা বন্দোপাধ্যায় আজও রাজীব গান্ধীকে শ্রদ্ধা করেন৷ মমতা বন্দোপাধ্যায় কারও সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি৷ বরং শুভেন্দু অধিকারী একজন গদ্দার৷ মমতা বন্দোপাধ্যায় গদ্দারী করেননি৷ তিনি দল প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর শুভেন্দু নিজেকে ইডি-সিবি আই থেকে বাঁচাতে দলবদল করেছেন৷

শুভেন্দুকে একহাত নিয়ে কুণাল আরও বলেন, রাজভবনটা জগদীপ ধানখড় থাকাকালীন জ্যেঠুর বাড়ি পেয়েছিল। এখন আর পাচ্ছে না। সেটাই আক্রোশ৷ রাজ্যপাল কিছু ক্ষেত্রে একমত হন, কিছু ক্ষেত্রে একমত হন না। আসলে ওঁর রাজনীতি করতে সমস্যা হচ্ছে। সাংবিধানিক পদ নিয়ে তাই অসৌজন্য করে ফেলছেন বারবার।












Click it and Unblock the Notifications