রাজনীতির কারণেই ভাগ জলপাইগুড়ি জেলা? উঠছে প্রশ্ন

আরও পড়ুন: ২৫ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের ২০তম জেলা হচ্ছে আলিপুরদুয়ারআরও পড়ুন: অনেক পর্যটনস্থল, চা বাগান যাচ্ছে আলিপুরদুয়ারে, রাজস্ব হারাবে জলপাইগুড়ি
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ২৫ জুন থেকে জলপাইগুড়ি ভেঙে আলাদা জেলা হচ্ছে আলিপুরদুয়ার। এর পরই আলিপুরদুয়ার মহকুমায় উৎসব শুরু হয়ে যায়। কিন্তু জলপাইগুড়ি মহকুমায় তখন অন্য ছবি। বিষাদ সর্বত্র। এই এলাকার বিভিন্ন গণ সংগঠনগুলির অভিযোগ, লোকসভা ভোটে বিধানসভা আসনের নিরিখে কালচিনি ও মাদারিহাটে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ২৪ হাজার ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি। খোদ জলপাইগুড়ি, ধূপগুড়িতেও অনেক বেশি ভোট পায় বিজেপি। কালচিনি ও মাদারিহাট পড়ছে আলিপুরদুয়ার মহকুমায়। আর জলপাইগুড়ি, ধূপগুড়ি পড়ছে জলপাইগুড়ি মহকুমায়। অর্থাৎ অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলায় দ্রুত উঠে আসছিল বিজেপি। তাই বিজেপি-কে দুর্বল করতেই জেলা ভাঙা হল বলে অভিযোগ। এতদিন অবিভক্ত জলপাইগুড়িতে যে শক্তি ছিল বিজেপি-র, জেলা ভেঙে যাওয়ায় তাদের ঢেলে সাজাতে হবে নিজেদের সংগঠন। সামনে বিধানসভা ভোট আসছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ভেঙে দিয়ে তাই শাসক দল ফায়দা তুলতে চেয়েছে বলে অভিযোগ। নইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর তিন বছর ধরে কাজটা কেন ফেলে রাখলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য বলেছেন, "বর্ধমান ভেঙে দুর্গাপুর-আসানসোল নিয়ে আলাদা জেলার করার প্রস্তুতি এই সরকার আগেই শুরু করেছিল। এখন আর উচ্চবাচ্য করছে না। কারণ, আসানসোলে বিজেপি জিতেছে।" তাঁর মতে, আসানসোল অঞ্চলকে আলাদা জেলার স্বীকৃতি দিলে সাংগঠনিকভাবে লাভ হবে বিজেপি-র। তাই বর্ধমান জেলা অটুট রইল।
শাসক দল অবশ্য এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের সাফ হিসাব, জলপাইগুড়ি সদর থেকে আলিপুরদুয়ার শহরের দূরত্ব ১০১ কিলোমিটার। বাসে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। জলপাইগুড়ি থেকে কুমারগ্রামের দূরত্ব ১৪৩ কিলোমিটার। কোনও কাজ থাকলে তা সারতে জলপাইগুড়ি যেতে আধবেলা চলে যায়। আলাদা জেলা হওয়ায় মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।












Click it and Unblock the Notifications