২৫ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের ২০তম জেলা হচ্ছে আলিপুরদুয়ার

জলপাইগুড়ি ভেঙে আলিপুরদুয়ার জেলা গড়ার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। বামফ্রন্ট সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত লাল ফিতের বাঁধনে পড়ে তা আটকে যায়। ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি আলাদা জেলা গঠনের ঘোষণা করবেন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই এই ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু ইডেন গার্ডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি উত্তরবঙ্গ সফর কাটছাঁট করে ফিরে আসেন। ফলে নতুন জেলা ঘোষণার বিষয়টি ঝুলে যায়। কবে জেলা গঠন হবে, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছিল। এদিন সবাইকে চমকে দিয়ে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, ২৫ জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে জেলা ভাগের সিদ্ধান্ত। প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ি ভেঙে যে আলিপুরদুয়ার জেলা তৈরি হচ্ছে, এই খবর পয়লা জুন 'ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা'-তে প্রকাশিত হয়েছিল।
মাদারিহাট, আলিপুরদুয়ার ১ ও ২ নম্বর, কুমারগ্রাম, ফালাকাটা, কালচিনি এবং বীরপাড়া ব্লক নিয়ে গঠিত হবে আলিপুরদুয়ার জেলা। এ ছাড়া ধূপগুড়ির বিন্নাগুড়ি এবং মাকোয়াঝোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত দু'টি মাদারিহাট ব্লকের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। আর জলপাইগুড়ি জেলায় থাকছে সাতটি ব্লক। এগুলি হল: মাল, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, মাটিয়ালি এবং নাগরাকাটা।
আপাতত ভাগ হচ্ছে না বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা
এ দিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা সিপিএম বিধায়ক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, "জলপাইগুড়ি জেলা ভাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। এর ফলে মানুষের উপকার হবে।" তিনি দাবি করেন, বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাও ভাগ করতে হবে।
বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ভাগ নিয়েও নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। বর্ধমান ভেঙে দুর্গাপুর-আসানসোল এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ভেঙে ঝাড়গ্রাম জেলা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: অনেক পর্যটনস্থল, চা বাগান যাচ্ছে আলিপুরদুয়ারে, রাজস্ব হারাবে জলপাইগুড়ি
আরও পড়ুন: রাজনীতির কারণেই ভাগ জলপাইগুড়ি জেলা? উঠছে প্রশ্ন
আলিপুরদুয়ার আলাদা জেলা হওয়ার পর তার উন্নয়নে কেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত টাকা পাবে রাজ্য সরকার। সেখানকার মহকুমা পরিকাঠামোকে জেলা পরিকাঠামোর উন্নীত করতে হবে। নবান্নে রাজ্য সরকারের এক আমলা জানান, নতুন জেলার প্রশাসন চালাতে অতিরিক্ত ডব্লুবিসিএস অফিসার, করণিক ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। আলাদা জেলা পুলিশ লাইন তৈরি করতে হবে। মহকুমা আদালতকে জেলা আদালতের পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। সার্বিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অন্তত এক বছর লেগে যাবে বলে অনুমান।












Click it and Unblock the Notifications