ভারতের শেষ রেলস্টেশন রয়েছে এই বাংলাতেই, জানেন কোথায় অবস্থিত সেই স্টেশন
ভারতের শেষ রেলস্টেশন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেই। উত্তরবঙ্গের সেই রেলস্টেশন আবার বহু মনীষীর স্মৃতিবিজড়িত। কিন্তু তা আজও হেরিটেজ হয়ে ওঠেনি। হেরিটেজ রেল স্টেশন করার উদ্যোগ যে নেওয়া হয়নি তা নয়, কিন্তু সেই উদ্যোগ আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
কোথায় ভারতের সেই শেষ রেলস্টেশন জানেন কি? অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। সেই রেলস্টেশনে দিয়ে এখন আর যাত্রীবাহী ট্রেনও যায় না। কেবল পণ্যবাহী কয়েকটি ট্রেন যাতায়াত করে। কিন্তু এই রেলস্টেশনকে হেরিটেজ করে পর্যটন ক্ষেত্র করে গড়ে তোলা যেত, কিন্ত সেই উদ্যোগ বিশ বাঁও জলে।

ভারতের শেষ এই রেলস্টেশনের নাম হল সিঙ্গাবাদ। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় অবস্থিত এই রেল স্টেশন। এটি এমন একটি রেলস্টেশন, য়ার উপর দিয়ে ট্রেনে করে ঢাকায় গিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধী-সহ বহু মান্যগণ্য ব্যক্তি।
বাংলায় তৃণমূল সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্টেশনটিকে হেরিটেজ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রেল দফতরে প্রস্তাব পাঠালেও তা মান্যতা পায়নি আজও। দেশের শেষ রেল স্টেশন হিসেবে গণ্যে হলেও বর্তমানে যাত্রী চলাচলও হয় না স্টেশনে।
কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন নয়, শুধু মালগাড়ি চলে এই রেলস্টেশনের উপর দিয়ে। বাংলাদশের সীমান্তবর্তী এই স্টেশন। এই স্টেশনের পরেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশ। এটি প্রাচীনতম রেল স্টেশনের মধ্যে একটি। এই স্টেশনের যাবতীয় ব্রিটিশ আমলের তৈরি। স্বাধীনতার পরবর্তী তেমন কোনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে।

রেল সূত্রে জানা যায়, আগে পুরাতর মালদহ কোর্ট স্টেশন থেকে সিঙ্গাবাদ পর্যন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলত। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ সেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। কারণ হিসেবে জানানো হয় জানানো হয় যাত্রী অপ্রতুলতা। অর্থাৎ যাত্রী না হওয়ার কারণেই বন্ধ ট্রেন চলাচল।
ভারতের এই সিঙ্গাবাদ রেলস্টেশনটি মালদহের হবিবপুরে অবস্থিত। এপার বাংলায় মালদহ জেলার এই স্টেশন আর ওপার বাংলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এই সিঙ্গাবাদ রেলস্টেশনে এখনও জ্বলজ্বল করছে ভারতের শেষ স্টেশন। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থা। কিন্তু হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষজন চাইছেন ফের শুরু হোক পরিষেবা, হেরিটেজ হোক সিঙ্গাবাদ।

এখানে উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের পর এখানে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে চলে শুধু মালগাড়ি। এই স্টেশন হয়েই বাংলাদেশ থেকে নেপালে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ হয়। পণ্যবাহী ট্রেন রোহনপুর, সিঙ্গাবাদ ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে যায়। এখন দেখার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাব মেনে এই স্টেশন হেরিটেজ স্বীকৃতি পায় কি না, যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু হয় কি না।












Click it and Unblock the Notifications