'২৬-এ বাংলায় বিজেপি'! সরকার গড়লে 'লক্ষী ভাণ্ডার' সহ এই সব প্রকল্প পাবেন মানুষ, কী ঘোষণা অমিত শাহের?
'২০২৬-এ বিজেপি ক্ষমতায় এলে বর্তমানে চলতে থাকা কোনও সরকারি প্রকল্প বন্ধ হবে না'! ঠিক এই বার্তাটিই স্পষ্ট ভাষায় জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল তিনি কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। আর সেই একদিনের সফরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান যে, "এখনকার সরকার যে সব প্রকল্পগুলি চালাচ্ছে, তার একটিও বন্ধ করা হবে না। বরং এর পাশাপাশি বিজেপির তরফে নতুন প্রকল্পও চালু করা হবে।"

অমিত শাহের অভিযোগ, রাজ্যে সমস্ত প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাল প্রচার চালাচ্ছে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন যে, "বিজেপির সরকার গঠিত হলে বর্তমান চালু থাকা সরকারের সমস্ত প্রকল্পই চলবে। পাশাপাশি বিজেপির ইস্তেহারে যেসমস্ত নতুন প্রকল্পের কথা বলা হবে, সেগুলিও বাস্তবায়িত করা হবে। তিনি দাবি করেছেন যে, 'গোটা দেশজুড়ে যেখানে বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে সেখানেই উন্নতি হয়েছে।'
এই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতাও করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের পক্ষ থেকেই বাংলার জন্য বরাদ্দ বহু প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। আর এই সমস্যাকে সামনে রেখেই আবার বাংলার বঞ্চনা প্রসঙ্গে সরব হয়েছে শাসক দল।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন যে, "কেন্দ্র বাংলার জন্য সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা কেন বন্ধ করে রেখেছে? এই টাকা কী বিজেপির ব্যক্তিগত টাকা? এই টাকা তো সাধারণ মানুষের, করদাতাদের টাকা। জিএসটির মাধ্যমে রাজ্যের সব টাকা নিয়ে যাচ্ছে, অথচ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ টাকা কোন অধিকারে বন্ধ রাখা হয়েছে?"
এখানেই থেকে থাকেননি তিনি। আরও কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করে জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন যে, "হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও বিজেপি তা মেনে চলে না। পশ্চিমবঙ্গকে কোনওভাবেই টাকা না দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে তারা রাজনীতিতে নেমেছে। গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে ভোট চাইছে বিজেপি।"
তাঁর অভিযোগ যে, বিজেপি কোনও সংবিধান মানে না এবং নিজেদের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে বড় হার সহ্য করতে হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, "২০২৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই বিজেপিকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হবে।"
সব মিলিয়ে রাজ্যে প্রকল্প, বরাদ্দ টাকা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে ঘিরে রাজনৈতিক চড়াই উৎরাই আরও তীব্র হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।












Click it and Unblock the Notifications