‘ভোটব্যাঙ্কের জন্যেই হিন্দু ওবিসিরা বঞ্চিত’, ওবিসি মামলায় ফের আক্রমণাত্মক শুভেন্দু
ওবিসি সংরক্ষণ ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে কড়া আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, "ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে প্রকৃত হিন্দু ওবিসিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে"। একই সাথে রাজ্যের একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারকে দুষলেন বিরোধী দলনেতা। চাইলেন 'শূন্য পদের তালিকা'।
এদিন ঠিক কী বলেন শুভেন্দু অধিকারী? বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, "রাজ্য সরকার শুধু ভোটের রাজনীতি করছে। হাইকোর্টের বাতিল করা ওবিসি তালিকা অগ্রাহ্য করে তারা আরও তিন মাস সময় চেয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। এর অর্থ, এই আমলে আর কোনও নিয়োগ হবে না। ফলে বাংলার ২ কোটিরও বেশি বেকার যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে"।

একই সাথে তিনি আরও বলেন, "স্কুল সার্ভিস কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড- রাজ্যের সব নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। শূন্যপদ চিহ্নিত করে দ্রুত নিয়োগ শুরু করা উচিত। রাজ্যের শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা উচিত। তাতেই বোঝা যাবে রাজ্যে কত সংখ্যক বেকার রয়েছেন"।
সুপ্রিম কোর্ট ঠিক কী নির্দেশ দিয়েছে? মঙ্গলবার ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, "নতুন সমীক্ষার কাজ চলছে, যেখানে ওবিসি তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে"। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে আরও তিন মাস সময় চেয়েছিল রাজ্য সরকার, যা সুপ্রিম কোর্ট মঞ্জুর করেছে।
এর আগে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, "২০১০ সালের পর যারা ওবিসি সার্টিফিকেট পেয়েছেন, তাদের নথিপত্র যাচাই হয়নি। ফলে হাইকোর্ট ১২ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করে। রাজ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। যা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি অভিযোগ করছে, "একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে তোষণ করতে প্রকৃত ওবিসিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে"। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, "নতুন সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাপ্রাপকদের নিশ্চিত করা হচ্ছে"।
আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্যকে ওবিসি তালিকা পুনর্গঠনের কাজ শেষ করতে হবে। বিরোধীরা চাইছে, শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ শুরু হোক। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতেই বোঝা যাবে, রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণ নীতি আদৌ বৈধ কি না! এই ইস্যু এখন রাজ্য রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications