নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে হাই কোর্টের কড়া বার্তা, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকাশ করতে হবে সব ওএমআর
চলতি বছরের শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ঘিরে ফের একবার স্বচ্ছতার প্রশ্নে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিংহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন চলতি নিয়োগে ব্যবহৃত প্রতিটি ওএমআর শিট জনসমক্ষে আনতেই হবে, তাও আবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে।
বৃহস্পতিবার আদালতে বিচারপতি সিংহ জানান, নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির সব সংশ্লিষ্ট ওএমআর বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করতে হবে। এসএসসির ওয়েবসাইটেই আপলোড হবে এই সমস্ত নথি। আদালত সময়ও বেঁধে দিয়েছে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব কিছু জনসমক্ষে আনতে হবে।

স্বচ্ছতার প্রশ্নে আদালত অতীতের অন্ধকারকেও এড়িয়ে যায়নি। ২০১৬ সালের প্যানেলের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর যাঁরা নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
নবম দশমের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর, একাদশ দ্বাদশের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ১২ মার্চ। তবুও পরে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন এই নতুন তালিকা নিয়েই বেশি জোর দিচ্ছে আদালত।
এসএসসি.কে আদালতের প্রশ্ন "ওএমআর প্রকাশে এত দেরি কেন? বুধবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, এসএসসি-সংক্রান্ত সব মামলা শুনবে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই অনুযায়ী মামলাটি ওঠে বিচারপতি সিংহের এজলাসে।
সেখানে এসএসসির আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বিচারপতির প্রশ্ন
"ওএমআর প্রকাশ করা হয়নি কেন? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যখন নিয়োগ হচ্ছে, শুরু থেকেই স্বচ্ছতার পথেই হাঁটা উচিত ছিল। নয়তো পরবর্তীতে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে।"
বিচারপতির আরও নির্দেশ ২০১৬র মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের যে প্রার্থীরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়াতেও অংশ নিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যত নির্ভর করবে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।
এসএসসি সূত্রের খবর, নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবারই পুরনো প্যানেল পরবর্তী নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন "স্বচ্ছতার বিষয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। প্রায় সাত লক্ষ ওএমআর শিট রয়েছে। এত বিশাল ডাটাবেস আপলোড করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা চাই। তা পেলেই দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।"












Click it and Unblock the Notifications