কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়! রাজ্য পুলিশকে দিয়েই পুরসভা ভোট করানোর নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
কলকাতা পৌর নিগমের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নয় রাজ্য পুলিশকে দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে হাইকোর্টের নির্দেশ বিধানসভার ভোট পরবর্তী হিংসায় ভোটারদের যে মনোবল ভেঙে গিয়েছে রাজ্য সরকা
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশকে দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে হাইকোর্টের নির্দেশ, এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে।

শুধু তাই নয়, বিধানসভার ভোট পরবর্তী হিংসায় ভোটারদের মনোবল ভেঙে গিয়েছে বলে যে অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বা রাজ্য সরকারের পরামর্শ নিয়ে ভোটারদের সেই মনোবল ফিরিয়ে আনতে হবে। পুর নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত মামলায় এমনই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
অন্যদিকে স্পর্শ কাতর ও অতি স্পর্শকাতর এলাকায় চিহ্নিত করে পরিকল্পনা মফিজ রুট মার্চ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১৪ই ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট প্রতিটি বুথে এবং গণনা কেন্দ্রে সিসিটিভি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিল তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে।
নির্বাচন চলাকালীন যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তার জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্দেশ নামাতে তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, পুরভোটের উপর কড়া নজর রাখবে আদালত। তাও এক প্রকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, এদিন মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্নের মুখে শুক্রবার বিড়ম্বনার পড়তে হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। পুরভোটে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে তাহলে অসুবিধা কোথায়? আগামী ১৯ ডিসেম্বর পুরভোট, ভোটার ও বুথগুলির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন প্রসঙ্গে এদিন এরকম একাধিক প্রশ্ন তোলে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়ে বলা হয়, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কমিশন আরও জানায়, সমস্ত বুথে অস্ত্রধারী পুলিশ, সমস্ত সেক্টরে আরটি ভ্যান, সমস্ত জেলা বর্ডারে জেলা পুলিশ সতর্ক থাকবে।
মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানতে চায়, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে কমিশনের পক্ষ থেকে কত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে? কোন কোন পুলিশ ফোর্স ব্যবহার করা হচ্ছে ? কিন্তু এর কোনও উত্তর দিতে পারেনি কমিশন। নির্বাচনের দুদিন আগে সেই তথ্য সঠিক ভাবে নেই কেন ? প্রশ্ন তোলে ডিভিশন বেঞ্চ।
ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানতে চায়, ১৬৫৬ বুথে পুলিশের পরিমাণ কত ? নির্বাচনে পুলিশ অধিকারীদের কি ভাবে কমিশন ব্যবহার করছেন? শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন কে ? অশান্তি সৃষ্টি হলে তাঁর দায় কে নেবেন কমিশন না রাজ্য সরকার ? আদালতের প্রশ্ন, ২২ হাজার পুলিশ দিয়ে ১৪৪টি ওয়ার্ডে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করা সম্ভব?
কিন্তু এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে এর কোনও উত্তর দিতে পারেনি। এপ্রসঙ্গে আদালতের মন্তব্য, 'কমিশন এই মামলাকে সিরিয়াসলি নেয়নি।' তবে তিন ঘন্টার বেশি শুনানি শেষে গভীর রাতে মামলায় চূড়ান্ত নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে ঠিক মতো নির্দেশ মানা কিংবা কোনও অশান্তি হল না সেই সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতকে জানাতে হবে বলে নির্দেশ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের।












Click it and Unblock the Notifications