বাংলা জুড়ে তাপপ্রবাহ! জেলার নাম ও তারিখ উল্লেখ করে কমলা সতর্কবার্তা আবহাওয়া দফতরের
আবহাওয়া দফতর রাজ্যে তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির জন্য ১২ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে কমলা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওরা কারণে এই সময়ের মধ্যে উত্তরবঙ্গের জন্য হলুদ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মূলত শুকনো পশ্চিমা এবং উত্তর পশ্চিমা বায়ু এই অঞ্চলে অবস্থান করছে। যে কারণে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরও ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

ষোলোই এপ্রিল রবিবারের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে মূলত শুকনো আবহাওয়া থাকবে। বর্তমানে এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। তা আগামী পাঁচ দিনে আরও বেশ কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের।
সতর্কবার্তা আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১২ এপ্রিল বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুএকটি জায়গায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দু-একটি জায়গায় তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে রবিরারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় সঙ্গে উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে তাপপ্রবাহ চলার সম্ভাবনা। যে কারণে কমলা সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আবহাওয়া দফতরের তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপরে মাঝারি প্রভাব পড়লেও শিশু-বয়স্ক এবং যাঁরা ক্রনিক কোনও রোগে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও যাঁরা তাপের নিচে দীর্ঘ সময় ভারী কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তীব্র তাপে হিট ক্র্যাম্প এবং হিট র্যাশ তৈরি হতে পারে। মাঠে থাকা সবজি শুকিয়ে যেতে পারে। এমন কী পশু-পাখিরও ক্ষতি হতে পারে।

পরিস্থিতি এড়াতে দীর্ধ সময় তাপ এড়িয়ে চলতে হবে। হাল্কা, ঢিলেঢালা এবং সুতির জামা-কাপড় পরতে হবে। টুপি-ছাতা কিংবা কাপড় দিয়ে মাথা ঢাকতে হবে। শরীরে জলশূন্য পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। বেলা ১১ থেকে বিকেল ৪ টের মধ্যে সূর্যের তাপে কাজ করা এড়িয়ে চলতে হবে। তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে সেই কাজ করতে হবে।
গৃহপাতিত পশু-পাখিকে বেলা ১১ টা থেকে বিকেল চারটের মধ্যে বাইরে বের করা যাবে না। মাঠে থাকা সবজিতে পর্যাপ্ত জল দিতে হবে। এছাড়াও কারও হিট স্ট্রোক, হিট ক্র্যাম্প, হিট র্যাশ, শরীর দুর্বল হওয়া, মাথা ধরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে শীঘ্রই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications