SIR-এর কাজে গেলে পড়াবে কে? স্কুলে BLO-দের তালা বন্ধ করে রাখলেন অভিভাবকরা! আসল ঘটনা কী?
আজ থেকেই শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে SIR পদ্ধতি। এই SIR-এর কারনে বহুদিন ধরে চলছে নানারকমের বিক্ষোভ। সমস্ত স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে কিছু শিক্ষকে BLO-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিছু শিক্ষক যেমন চাইছেন না এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে তেমনই আবার পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মানুষেরাও আপত্তি জনিয়েছেন এই বিষয়ে। কারণ বাচ্চাদের পড়াশোনার কথা চিন্তা করেই তাঁরা চাইছেন না যে, স্কুলের শিক্ষকরা স্কুল না এসে SIR-এর কাজে যান। এরকমই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটার চণ্ডীগড় স্পেশ্যাল ক্যাডার এফপি নাম একটি স্কুলে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ।

গাইঘাটায় ওই স্কুলে মাত্র তিন জন শিক্ষক এবং পড়ুয়াসংখ্যা ১৫০। তিন জনকেই বিএলওর দায়িত্ব দিয়েছে প্রশাসন। সেই তিন জন শিক্ষক যদি বিএলও-র কাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তাহলে বাচ্চাদের স্কুলে পড়াবে কে? এই কথা চিন্তা করেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর শুরুর প্রথম দিনেই অভিভাবকেরা শিক্ষকদের স্কুলে আটকে রাখলেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার। অভিভাবকদের দাবি, স্কুলে কোনও একজন শিক্ষককে থাকতেই হবে।ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার যেন কোনোরকম ক্ষতি না হয়।
এক অভিভাবকের দাবি, ''আমাদের স্কুলে দীর্ঘ দিন ধরে মাত্র ৩ জনের বেশি শিক্ষক নেই। বার বার প্রশাসনকে এই কথা জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। স্কুলে সবমিলিয়ে ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। এটা গরিবদের এলাকা। গৃহশিক্ষক রেখে বাচ্চাদের পড়ানোর ক্ষমতা সকলের নেই। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য স্কুলের শিক্ষকদের উপর নির্ভর করে থাকি। স্কুলটাও খারাপ নয়, ভালই। কিন্তু এখন যদি সমস্ত শিক্ষক বিএলওর কাজ করতে বেরিয়ে পড়েন তাহলে বাচ্চাদের পড়াশোনার কী হবে?''
অন্যদিকে এরকম বিক্ষোভের মুখে পরেও অভিভাবকদের দাবিগুলিকে সম্মতি দিয়েছেন শিক্ষকরা। ওই স্কুলের একজন শিক্ষক ধীমানচন্দ্র রায় বলেন যে, ''গেটে তালা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন অভিভাবকেরা। আমাদের তিন জন শিক্ষকেকেই বিএলওর দায়িত্ব দিয়েছে প্রশাসন। পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সেই দাবি করেই আমাদের আটকে রাখেন অভিভাবকরা।'' অভিভাবকদের চিন্তার কারণও তিনি মেনে নেন। সামনেই ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা। এইসময় যদি স্কুলের সমস্ত শিক্ষক বিএলও-র কাজে চলে যান তাহলে স্কুলের পঠন পাঠন বন্ধ হয়ে যাবে।
এইরকম অবস্থায় বাইরে থেকে এক জন শিক্ষক নিয়ে আসার কথা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধীমানচন্দ্র। তিনি এও জানিয়েছেন বিডিও একটি বৈঠক করবেন। তারপরেই নতুন ওই শিক্ষককে পড়ানোর সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে বেরোনো হবে।












Click it and Unblock the Notifications