রাজ্যে এসআইআর-এর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, কি কি নথিপত্র প্রয়োজন বিস্তারিত জেনে নিন

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার এক বিরাট পুনর্গঠন প্রক্রিয় 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' তথা এসআইআর বা বিশেষ নিবীড় সংশোধন। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। লক্ষ্য একটাই প্রতিটি বৈধ ভোটার যেন তালিকায় থাকেন, আর কোনও অবৈধ নাম যেন তালিকায় না থাকে।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার এসআইআরে প্রতিটি ভোটারের তথ্য পুনরায় যাচাই করা হবে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম এত বড় মাত্রায় ভোটার তালিকা সংশোধন হতে চলেছে রাজ্যে। কারণ, কমিশনের ধারণা বছরের পর বছর নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বহু ত্রুটি থেকে গিয়েছে।

-

প্রতিটি বাড়িতে শীঘ্রই পৌঁছে যাবে 'এনুমারেশন ফর্ম', যা দেবেন বুথ লেভেল অফিসার তথা বি এল ও। সেই ফর্মে প্রায় ৯০ শতাংশ তথ্য আগেই ছাপা থাকবে, ভোটারের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ ইত্যাদি। ভোটারদের কাজ কেবল বাকি তথ্য পূরণ করে নির্দিষ্ট নথি সহ জমা দেওয়া।

কমিশন এবার ১১টি নথিকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে যার মধ্যে রয়েছে জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক নথি, এলআইসি ডকুমেন্ট, শিক্ষাগত শংসাপত্র, জমির দলিল ইত্যাদি। সঙ্গে আধার কার্ডও ব্যবহার করা যাবে,যদিও শুধুমাত্র পরিচয়পত্র হিসেবে, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নয়।

বিশেষ ছাড়ও রয়েছে, যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের নতুন করে নথি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

নাম বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, যাঁদের পরিবার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই ও ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রবল। এছাড়াও
মৃত ভোটার, অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি, একই নাম দুই জায়গায় থাকা ভোটার, সব ক্ষেত্রেই নাম এক জায়গা থেকে মুছে যাবে। আনুমানিকভাবে, এক কোটির কাছাকাছি নাম বাদ যেতে পারে, যার মধ্যে মৃত ও অনুপ্রবেশকারীর নামও থাকতে পারে বলে মনে করছে কমিশনের একাংশ।

রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দেখা দিলেও তবে এই প্রক্রিয়া ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরের আড়ালে বিজেপির এজেন্ডা কাজ করছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যে বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে আসা প্রায় এক কোটি অনুপ্রবেশকারীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সংশোধন। বিজেপি অবশ্য বলছে এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বৈধ ভোটারদের সুরক্ষার জন্যই এই উদ্যোগ।

২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। দু'টিতেই যাঁদের নাম মিলছে, তাঁদের পরিবারকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বাড়তি নথি দিতে হবে না। এই প্রক্রিয়াকে কমিশন বলছে "ম্যাপিং" যা বাংলায় করা হলেও বিহারে করা হয়নি।

২০০২ সালের ভোটার তালিকা এখন রাজ্যের সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। সেখানে বিধানসভা এলাকা অনুযায়ী নাম অনুসন্ধান করা সম্ভব। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলের বুথ এজেন্টরাও সাহায্য করবেন।

বিহারের মতোই, পশ্চিমবঙ্গেও এক মাসের মধ্যে ফিল্ডের কাজ শেষ করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার পর অভিযোগ,আপত্তি যাচাই করে প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত তালিকা যেটির ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের ভোট হবে।

২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার ছিল প্রায় ৪.৫৮ কোটি, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৬৫ কোটি। এই বিপুল তালিকাকে নিখুঁত করতে কমিশন যে এবার সর্বশক্তি দিয়ে নামছে, তাতে সন্দেহ নেই।

তবে রাজনৈতিক উত্তাপও যে ক্রমেই বাড়বে তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। একদিকে কমিশনের দাবি, এটি প্রশাসনিক 'পরিষ্কার অভিযান', অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, এটি ভোটের আগে এক নতুন 'রাজনৈতিক অস্ত্র'।
সব মিলিয়ে, এসআইআরের ফলাফলই এখন রাজনীতির পরবর্তী অঙ্ক নির্ধারণ করবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+