ED Raid: অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে নববর্ষের সকালে রাজ্যের ৮ জায়গায় হানা ইডির, জাল পাসপোর্ট তদন্তে গতি
ED Raid: নববর্ষের সকালেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ইডির হানা। অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে শহর থেকে জেলায় জেলায় সাতসকালে মোট ৮টি জায়গায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভুয়ো পাসপোর্ট মামলা ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে অভিযান চালায় ইডি। মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার বেকবাগান, উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি, নদিয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা গেদেতে অভিযান চালানো হয় ইডির তরফে।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে অনুপ্রবেশকারীরা নানান ছদ্মনামে ভারতে থাকছেন। এদের ফেক পাসপোর্ট তৈরি করে দিত অসাধু চক্র। সীমান্ত পেরিয়ে এসে ফেক পাসপোর্ট নিয়ে এদেশে ঘাঁটি গেড়েছে অনুপ্রবেশকারীরা। মোটা টাকার বিনিময়ে ওই ভুয়ো পাসপোর্ট বানান হত বলে অভিযোগ। পাসপোর্ট জালিয়াতিতে জড়িত অপরাধীদের নাগাল পেতেই এদিন কলকাতা-সহ রাজ্যের মোট ৮ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি।

এদিন বিরাটির বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। বাড়ি ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সূত্রের খবর, এই বাড়িতে পাসপোর্ট জালিয়াতিতে যিনি জড়িত বলে অভিযোগ, তিনি এতদিন বাড়িতে ছিলেন না। সোমবার রাতেই বাড়িতে এসেছেন তিনি। আর সেই খবর পেয়েই মঙ্গলের সাতসকালে অভিযান চালায় ইডি। ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা রুজু করে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিরাটি, বেকবাগান, গেদেতেও একইভাবে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চলে তল্লাশি।
প্রসঙ্গত, পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলায় গত মাসেই নিম্ন আদালতে চার্জশিট জমা করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। সেই চার্জশিটেই উল্লেখ করা হয়, জালিয়াতিকাণ্ডে জড়িত মোট অভিযুক্ত ১৩০ জন। এদের মধ্যে ১২০ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও বাকিরা ভারতের বাসিন্দা। বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে মূল যে অভিযোগ, তা হল বিপুল মোটা টাকার বিনিময়ে জাল ভারতীয় পাসপোর্ট হাতিয়ে নিত তারা। অপরদিকে, ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জাল পাসপোর্ট তৈরিতে অনুঘটকের কাজ করতেন তারা।
এর আগে কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেকটর আব্দুল হাইকে পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। সূত্রের খবর, চার্জশিটে আব্দুল হাইয়ের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন অফিসার হিসেবে ৫২টি এমন পাসপোর্টে ওই প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তা থেকে মোটা টাকাও পকেটে ভরেছিলেন আব্দুল। চার্জশিটে সেই তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকেই এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। এরপর মোটা টাকা দিয়ে এজেন্টদের থেকে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। এমনকী সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলিতে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে বাংলাদেশি নাগরিকদের এজেন্টরা থাকতেও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। প্রথমে জাল রেশন কার্ড তৈরি করে দেন এজেন্টরা। সেই রেশন কার্ড দেখিয়েই বাকি সমস্ত ভুয়ো পরিচয়পত্র যেমন এপিক কার্ড, প্যান কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করে দেন তারা। এই সমস্ত জাল নথি দেখিয়ে অবশেষে জাল পাসপোর্ট দেওয়া হয় অনুপ্রবেশকারীদের, দাবি পুলিশের।












Click it and Unblock the Notifications