Exclusive: পাঁচ মিনিট দেরি হলেই...কোলের সন্তানকে নিয়ে দৌড়! মনে পড়লেই শিউরে উঠছেন এই 'উমা'
Murshidabad Waqf Violence Exclusive: গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে প্রতিবাদের জেরে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ সুতি ধুলিয়ানের মতো এলাকায়। দিন কয়েক কেটে যাওয়ার পর কেমন আছেন সেখানকার বাসিন্দারা? গ্রাউন্ড জিরো পয়েন্টে গিয়ে হাল হকিকত এর খোঁজ নিল ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা।
মাত্র ৬ দিনের কোলের সন্তানকে নিয়ে বেদবনা গ্রামের বাড়িতে বসেছিলেন স্থানীয় মহিলা সপ্তমী। সন্তান সম্ভাবা হওয়র জন্য গত কয়েকমাস আগে বাপের বাড়িতে এসে থাকছিলেন ওই মহিলা। শ্বশুরবাড়ি গৌরিপুর। সম্প্রতি কোলে আসে ছোট সন্তান। তাঁকে নিয়েই গত সপ্তাহে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন সপ্তমী। ছোট্ট সন্তান, ফলে তাঁকে নিয়েই সময় কেটে যাচ্ছিল। সামনে যে বড় বিপদ তা কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি সপ্তমী।

অন্যান্য দিনের মত শনিবারও ঘরে বসেছিলেন। হঠাত করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। একের পর এক পড়তে থাকে বোমা। ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বহু মানুষকে বেধড়ক মারধর করছে দুষ্কৃতীরা। এর সঙ্গেই জুটছে হুমকি। সপ্তমী বলছেন, ভয়ঙ্কর সেই পরিস্থিতি। ছয়দিনের শিশুকে নিয়েই ছুটতে শুরু করলাম।
খালি পায়ে কোলের সন্তানকে নৌকায় উঠে চলে আসা। কোনও জামাকাপড় পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারেননি। আপাতত পারলালপুর হাইস্কুলের দূর্গত শিবির এখন ঠিকানা সপ্তমীর। চোখেমুখে একরাশ টেনশন। কীভাবে চলবে আগামীদিন? ওরা তো সব পুড়িয়ে দিয়েছে। সপ্তমীর বাবা স্থানীয় মুদি দোকান চালান। প্রতিবাদের নামে যে তান্ডব চলে তাতে সেটিও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে স্বামী এলাকায় আসতে ভয় পাচ্ছেন।
ছোট্ট সন্তানকে বাড়ি ফেরা হবে তো? অন্যদিকে সপ্তমীর মা ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে বলেন, মেয়েকে এনে রেখেছিলেন। এমন হবে বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি। মুদিখানার দোকান ছিল। টাকা ছিল। কিন্তু এখন সব শেষ।
শুধু তাই নয়, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওই পরিবারের। তাঁদের দাবি, একদল লোক কালো মুখে কাপড় বেঁধে এসেছিল। হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গলায় ছুরি ধরে মেরে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলছেন, পুলিশের সামনেই ওরা মারছে। নির্বাক দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন তাঁরা। বারবার আবেদন অনুরোধ করার পরেও কোনও কাজ হল না। সব দেখেও পুলিশ চলে গেল বলে অভিযোগ সপ্তমীদের।
দেখুন এই ভিডিও -












Click it and Unblock the Notifications