ফর্ম ৭ নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ! সংশোধনের আবেদন জানানোর শেষ দিন বাড়াল নির্বাচন কমিশন! কতদিন? জানুন
নির্বাচনের আগেই ভোটার তালিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবার অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় মৃত ভোটারদের নাম রেখে গরমিল করছে। তাঁর দাবি অনুসারে, এই ধরনের ভুলের কারণেই ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে, এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েনি বিজেপিও। রাজ্য বিজেপির বক্তব্য যে, তারা বারবার মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানালেও সবসময় তাদের তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ করেছে যে, অনেক জায়গায় ফর্ম ৭ জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। আর এই দাবিকে সামনে রেখেই একাধিক জায়গায় বিক্ষোভেও নামেন বিজেপি কর্মী এবং নেতৃত্ব।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। মৃত অথবা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের সময়সীমা নির্ধারিত সময়সীমার থেকে কিছুদিন আরও বাড়ানো হয়েছে। আগের নির্দেশ অনুসারে ১৫ জানুয়ারি ছিল শেষ দিন। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে গত কয়েক দিনের লাগাতার বিক্ষোভ ও অভিযোগের বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফর্ম ৭ জমা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ যে, কয়েক হাজার ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হওয়ার পরেও বিডিও অফিস থেকে কোনও রসিদ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। রসিদের দাবিতেই বাগদা বিডিও-র ঘরের সামনে টানা অনেকক্ষন ধরে অবস্থান করেন বিজেপি কর্মীরা।
ঠিক একই ধরনের ছবি বাঁকুড়াতেও ধরা পড়ে। সেখানে বিজেপির অভিযোগ যে, ফর্ম ৭ জমা দিতে যাওয়ার সময় তাহলে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাধা দেয়। এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবিও ওঠে।
আলিপুরদুয়ারে পরিস্থিতি এর থেকে আরও জটিল আকার নেয়। বিজেপির অভিযোগ যে, আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির নাম সহ নথি বিজেপির বিএলএ-রা জমা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এআরও সেই নথি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দিনভর চলতে থাকে বিক্ষোভ।
উল্লেখ্য, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার আওতায় কোনও ভোটারের মৃত্যু হলে অথবা তিনি যদি অন্যত্র স্থানান্তরিত হন তাহলে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে আবেদন জানাতে হয়। এই ফর্ম জমা নিয়েই বর্তমানে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আবার উত্তাপ ছড়িয়েছে। সময়সীমা বাড়ালেও আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি ঠিক কতটা শান্ত থাকে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।












Click it and Unblock the Notifications