মৃত ভোটার নেই এমন বুথের সংখ্যা ২২০৮ থেকে কমে ৪৮০! ১০০ শতাংশ ফর্ম ফিরেছে সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়
নির্বাচন কমিশন (ইসি) মঙ্গলবার ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) সময় বুথের সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করেছে। আগে ২,২০৮টি বুথ থেকে সমস্ত বিতরণকৃত ফর্ম ফেরত আসার তথ্য থাকলেও, সেই সংখ্যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪৮০-তে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ৪৮০টি বুথে কোনও মৃত, নকল বা খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ভোটার নেই। তবে এমন বুথগুলিকে নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে এই কারচুপি চলছে।

পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে ৭৮,০০০-এর বেশি বুথ রয়েছে। ১ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) ২,২০৮টি বুথের রিপোর্ট দিলেও, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) নির্দেশনায় নতুন যাচাইকরণের পর এই সংখ্যা ৪৮০তে নেমে আসে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্তা জানান, "গত সোমবার আমরা জেলার আধিকারিকদের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছিলাম। মৃত, নকল বা খুঁজে না পাওয়া ভোটারদের সংখ্যা সম্পর্কে দু'বার পরীক্ষা করতে বলি। এরপরই মঙ্গলবার দুপুরে এই সংশোধিত পরিসংখ্যান হাতে আসে।"
এমন বুথের সর্বোচ্চ সংখ্যা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়, যা ১৫৯টি। এই জেলার রায়দিঘী (৬৬), কুলপি (৫৮), পাথরপ্রতিমা (২০) এবং মগরাহাটে (১৫) সমস্ত ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ হয়ে ফিরে এসেছে। অন্যান্য জেলার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান অবশ্য জানানো হয়নি।
ওই আধিকারিক আরও যোগ করেন, "DEO-রা প্রাথমিক মূল্যায়নে আগের তথ্য পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু CEO-এর দফতর সমস্ত মাপকাঠি মেনে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দিলে সংখ্যাটি ১,৭২৮ কমে যায়। এই অসঙ্গতির কারণ বিশ্লেষণে আমরা সব জেলার ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের, বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভূমিকা সম্পর্কে রিপোর্ট চেয়েছি।"
তিনি স্পষ্ট করেন, এই সংশোধিত সংখ্যাটি ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান শুমারির জন্য চূড়ান্ত, যদিও কিছু বুথ-স্তরের আধিকারিকদের (BLOs) কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এদিকে, ৪ নভেম্বর শুরু হওয়া SIR-এর ২৮তম দিনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭,৬৫,৭৫,৩২৮টি ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট ভোটারের ৯৯.৯২ শতাংশ।
এ পর্যন্ত মোট ৭,৪৫,৯৯,৮৯২টি শুমারি ফর্ম ডিজিটালভাবে আপলোড হয়েছে, যা BLO-দের দ্বারা বিতরিত ও সংগৃহীত মোট ফর্মের ৯৭.৩৪ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ফর্ম বিতরণের সময়সীমা ৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এখন ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
পাশাপাশি, খসড়া ভোটার তালিকা ৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ পাবে। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির বদলে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications