যাদের ঢাকের বোলে মাতায় দুর্গাপুজো, আজ তাঁদের জীবনই ছন্দহীন
পুজোর কটা দিন ঢাকের বোল তুলে যাঁরা আট থেকে আশি সকলের মনে আনন্দের ঢেউ তোলেন, তাদের সারা বছর দুবেলা দুমুঠো অন্য জোটে না।
পুজোর কটা দিন ঢাকের বোল তুলে যাঁরা আট থেকে আশি সকলের মনে আনন্দের ঢেউ তোলেন, তাদের সারা বছর দুবেলা দুমুঠো অন্য জোটে না। তাই আর্থিক অনটনে দিন গুজরানে তাদের পাড়ি দিতে হয় অন্যত্র।

পুজো তখনই সম্পূর্ণতা পায় যখন ঢাকে কাঠি পড়ে। সারা পুজোয় ঢাকের বোলে মাতাতে বাংলার বিভিন্ন জেলার প্রতি বছরই ৫০০০ জনের বেশি ঢাকি পাড়ি দেয় ভিন রাজ্যে। বিদেশের পুজো মণ্ডপগুলোতেও যোগ দেন অনেকে। ঢাকের বোল তুলে মানুষের মনে আনন্দ দান করলেও সারাবছর নিজেরা থাকেন নিরানন্দে।
পুজোর সময় দুটো পয়সা উপার্জন করলেও বছরের বাকি সময়গুলোয় পরিবার নিয়ে তারা থাকেন চরম অর্থকষ্টে। তাই এই সময় তাঁদের পরিবার তাকিয়ে থাকে তাদের দিকে। পুজোর ক'টা দিন কাঁধে ঢাক নিয়ে মন্ডপে মায়ের আরাধনায় ঢাক বাজিয়ে পুজোর সম্পূর্ণতা ফুটিয়ে তোলা ঢাকিরা সারা কেউ ভ্যান রিকশা চালান। কেউবা জোগাড়ের কাজ করেন। রতন বৈশ্য, সনাতন বৈশ্যদের মতো ঢাকিরা পুজোর সময়েই দুটি পয়সা রোজগার করেন। তাও চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বাকী সময় চরম আর্থিক অনটনে দিন গুজরান হয় তাদের।
তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার অন্যান্য বাদ্যকরদের শিল্পী ভাতা প্রদান করছেন। তারা ঢাক বাজান, তারাও শিল্পী অথচ সরকার আজও তাদের শিল্পীর মর্যাদা দেননি। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে জেলা প্রশাসন সকলের কাছেই দরবার করেছেন তাদের শিল্পী কার্ড করে ভাতা প্রদানের ব্যাবস্থা করার জন্য। কিন্তু কেউই ফিরে তাকাননি তাঁদের দিকে।
আরও অভিযোগ, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়লেই এই ঢাকি পাড়ায় তখন আসেন অনেকেই। হাজারও আশ্বাসের বানী শুনে রাজনৈতিক নেতারা ভোট নিয়ে চলে যান। এভাবেই দিন যায়। ঢাকিরা সেই দুর্দশার মধ্যেই দিন কাটান।












Click it and Unblock the Notifications