তৃণমূল কাঁটায় বিদ্ধ বাবুলের পুজো উদ্বোধন, মমতা-নিশানায় বাক্যবাণ হানলেন দিলীপ
বিসর্জন বিতর্কের পর রাজ্যে পুজো নিয়ে নয়া কাজিয়ায় তৃণমূলকে আক্রমণ বিজেপির। অভিযোগ তৃমমূলের চাপে বাবুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে।
দুর্গাপুজো নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বাক্যবাণ হানলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী শুধুই বিতর্ক আর বিভাজন তৈরি করতে পারেন। হাইকোর্টে গোহারা হেরে আবার অনুমতির গেরো লাগাতে চাইছেন প্রতিমা বিসর্জনে। এবার না পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার জন্যও অনুমতি আবশ্যিক করে দেন তিনি।'

এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি অভিযোগ করেন, 'রাজ্যে এমনই সংস্কৃতি চলছে যে বিজেপির মন্ত্রী যাতে পুজো উদ্বোধনে উপস্থিত না হন তার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। হুগলির শ্রীরামপুরের একটি পুজোর উদ্বোধন করার কথা ছিল কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র। সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে তৃণমূলের চাপে। সম্প্রতি শ্রীরামপুরের নেহরু নগর সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি বিজেপির হুগলি জেলা সভাপতিকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র উদ্বেধনী অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছি।'
এদিন ওই পুজো কমিটির সম্পাদকের দেওয়া চিঠি তুলে ধরে দিলীপবাবু বলেন, এই চিঠিতে পরিষ্কার লেখা রয়েছে- 'আমাদের পুজোয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্বোধন করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম l কিন্তু এই উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কলহের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমরা বাবুল সুপ্রিয়কে দিয়ে উদ্বোধন করাতে পারছি না। তাঁর অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছি।'
দিলীপবাবু বলেন, শুধু তাই নয়, পুজেয় একজন ব্যবসায়ী অনুদান দিতেন। তাঁকেও ভয় দেখিয়ে অনুদান দিতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে- ওই পুজো কমিটিকে অনুদান দিলে তাঁর ব্যবসা গুটিয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয়মন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল প্রসঙ্গে হুগলির বিজেপি সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, 'যেহেতু বিজেপির একজন মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন, চাপ দিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। এখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, এই সংস্কৃতি কি বাংলার বুকে চলতে পারে?'


এদিন বিসর্জন নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রশাসনের মুণ্ডপাত করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, 'হাইকোর্টে গোহারা হেরে এখন অনুমতির ঘেরাটোপে বিসর্জনকে বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছে। সন্ধিপুজো, অস্ত্রপুজোর জন্য আলাদা অনুমতি লাগবে। এখন আবার বোধহয় পুষ্পাঞ্জলির জন্য অনুমতি নিতে হবে তাঁর।মুখ্যমন্ত্রী হয়তো দাবি করতে পারেন, দুর্গার দশ হাতে আর অস্ত্র নিয়ে আসা হবে না। তার জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর কন্যাশ্রী, যুবশ্রী আনতে হবে। অস্ত্রে ভয় পান আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, এবার তো সিংহ দেখলেও ভয় পাবেন, তাই সিংহের বদলে সবুজ সাথী সাইকেলে চড়ে দুর্গাকে এবার মণ্ডপে মণ্ডপে আসতে হবে।'
আসলে মুখ্যমন্ত্রী পুজো নিয়েও নিন্দনীয় রাজনীতি শুরু করেছেন। বাংলার বড় উৎসবে নিয়ে সবাই যখন মাতোয়ারা, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল চেষ্টা করে যাচ্ছে কী করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা যায়। ফলে নোংরা রাজনীতি চলছে বাংলার বুকে। বাংলাতে আগে কোনওদিনও এই সংস্কৃতি ছিল না।












Click it and Unblock the Notifications