'ছেলে মেয়েদের চাকরির আশায় বাবাকে...', যুবসাথী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন দিলীপ, কী বললেন?
রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প 'যুবসাথী' ঘিরে চারিদিকে ব্যাপকভাবে সাড়া পড়ে গিয়েছে। প্রথম দিনেই অফলাইনে লক্ষ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। আর সেই চাপ সামলানোর জন্যে অনলাইনেও চালু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। রাজ্য বাজেটে ঘোষিত 'যুবসাথী' প্রকল্পে নাম নথিভুক্তি শুরু হওয়ার পরেই বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পাশ তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় ছেলের হয়ে ফর্ম তুলতে বয়স্ক বাবাদেরও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। আর এই দৃশ্য ঘিরেই সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি যে, এরকম দৃশ্য রাজ্যের কর্মসংস্থানের অবস্থাই স্পষ্ট করছে।

এই প্রকল্পটি চালু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষদের কাছে এটি বেকার ভাতা হিসেবেই বেশি পরিচিত। দিলীপের কথায়, "বাবা মায়ের ওষুধের জন্য ছেলে মেয়েরা লাইনে দাঁড়ায়, এটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এখন ছেলে মেয়েদের চাকরির আশায় বাবাকে লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, যুবসমাজকে আকৃষ্ট করার জন্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। যার নেপথ্যে ভোটের অঙ্ক কাজ করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর যে, সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সাড়ে ১৩ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে মুর্শিদাবাদে, আর সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে কালিম্পংয়ে। বিজেপির দাবি যে, এই সংখ্যাটাই রাজ্যের বেকারদের সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। প্রথমে এটি ১৫ অগস্ট থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন যে, ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে 'যুবসাথী। সেই অনুযায়ী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রকল্পের আবেদন নেওয়া হবে।
এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে প্রার্থীর অন্তত মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। বয়স হতে হবে ২১-৪০ বছরের মধ্যে। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অথবা যুবশ্রী সহ রাজ্য সরকারের অন্য কোনও সামাজিক ভাতা পাচ্ছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। তবে পড়াশোনার স্কলারশিপ অথবা বৃত্তি থাকলে তা বাধা হবে না। এই প্রকল্পে যেসমস্ত যোগ্য বেকার যুবকরা আছেন তাঁরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত ভাতা পাবেন।
এর মধ্যে কেউ যদি চাকরি পেয়ে যান তাহলে এই ভাতার সুবিধা বন্ধ হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications