কাজের চাপেই কি প্রাণ গেল? মুর্শিদাবাদে আরও এক বিএলও এর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক
কাজের অতিরিক্ত চাপেই কি আরও এক বুথ স্তরের আধিকারিকের প্রাণ গেল? এমনই প্রশ্ন ঘিরে শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া। শ্রীপুর নামুপাড়া শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষিকা ও বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) মায়া মুখোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে শোকের আবহের পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।
মৃত শিক্ষিকার বয়স আনুমানিক ৫৮ বছর। এসআইআর সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে শ্রীপুর ২৫১ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন মায়া মুখোপাধ্যায়। পরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, এই মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও কাজের অতিরিক্ত বোঝা।

পরিবারের দাবি, মায়া মুখোপাধ্যায়ের আগে থেকেই বয়সজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যা ছিল। তিনি নিজে কখনও বিএলও এর দায়িত্ব নিতে চাননি। কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশের সামনে বাধ্য হয়েই সেই দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁকে। এক পরিজনের কথায়, "বিএলও হওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধন, বারবার শুনানি, নথি তৈরি ও জমা দেওয়ার চাপ ছিল অসহনীয়।"
পরিবারের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়লে গ্রামবাসীদের রোষের মুখে পড়তে হতে পারে এই আশঙ্কা তাঁকে দিনরাত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। সেই উৎকণ্ঠা ও চাপই ধীরে ধীরে তাঁর শরীর ও মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে দাবি।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তের জেরে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা চরম চাপে পড়ছেন। একের পর এক বিএলও এর মৃত্যু ও মানসিক অবসাদের ঘটনাকে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।
মায়া মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু শুধুই এক ব্যক্তির জীবনাবসান নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ফিল্ডের কর্মীদের উপর বাড়তে থাকা চাপের দিকেই নতুন করে আঙুল তুলছে এমনটাই মনে করছেন অনেকে।












Click it and Unblock the Notifications