ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'সেনিয়ার'! কমবে তাপমাত্রা, আগামী কয়েকদিন কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া?
বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, পরবর্তী পর্যায়ে এটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। যার নাম ঘূর্ণিঝড় 'সেনিয়ার'। এই কারণে আগামী কয়েক দিন বাংলার তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার ধরনে বড়সড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গ ও উপকূলবর্তী জেলাগুলির পরিস্থিতি আরও পরিবর্তন হতে পারে। আগামী কয়েক দিনে এই আবহাওয়া কেমন থাকতে পারে, কোন কোন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং কোন বিষয়গুলো নজরে রাখা জরুরি তা জেনে নেওয়া যাক।

আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের উপরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, এটি আগামী দিনে ঘূর্ণিঝড় 'সেনিয়ার'-এ রূপ নিতে পারে। যেটা আপাতত পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড় কোন উপকূলে আঘাত হানতে পারে তা এখনও জানা যায়নি। তবে এর পার্শ্বপ্রভাব বাংলায় থাকবেই।
এইসময় পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি কমে যেতে পারে। গত কয়েক দিনের তুলনায় ভোরবেলা ও রাতের দিকের ঠাণ্ডা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা আছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকতে পারে। যদি এই ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে হালকাভাবে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তেও পারে। কারণ ঝড়ের ঘূর্ণায়মান প্রক্রিয়াটি আশপাশের বাতাসকে উষ্ণ করে তোলে।
সাধারণত নভেম্বরের শেষ দিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঠাণ্ডা হাওয়ার প্রবাহ দক্ষিণবঙ্গে নামতে শুরু করে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় 'সেনিয়ার' কারণে সেই প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। যে কারণে দক্ষিণবঙ্গে শীত একটু দেরিতে শুরু হতে পারে। অর্থাৎ, সাময়িকভাবে হালকা ঠাণ্ডা থাকলেও কনকনে শীতের পরিবেশ এখনই অনুভূত হবে না।
পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা- এই তিন উপকূলবর্তী জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি আশা করা হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। সাগর উত্তাল থাকার কারণে উপকূল অঞ্চলে সতর্কতা জারি রয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় যদি তার গতিপথ পরিবর্তন করে বাংলার দিকে আসে, তাহলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ঝড়ের প্রাথমিক প্রভাবে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বাতাসের গতিবেগ বাড়বে। ইতিমধ্যেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠছে। যে কারণে মৎস্যজীবীদের সতর্কতা নির্দেশ জারি হয়েছে। পরবর্তী ৪৮-৭২ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে সমুদ্রে যেতে কড়াকড়ি ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কম থাকবে। এখানে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। রাতের দিকের তাপমাত্রা কিছু এলাকায় ১০ ডিগ্রি বা তার নিচেও নামতে পারে।
কলকাতায় খুব ভারী বৃষ্টি সম্ভাবনা নেই। তবে আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকবে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি নামার কারণে ভোরের দিকে ঠাণ্ডা লাগবে। বায়ুর আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে বাতাস তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে। তবে, ঝড়ের গতিপথ যদি পরিবর্তন হয় তাহলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications