আম্ফানে কী দশা হবে ব্যাঘ্র প্রকল্পের? ঝড়ে বাঘের সুরক্ষার্থে নেওয়া হচ্ছে কোন পদক্ষেপ
আয়লার সময় সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীবাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকে গেছিল। মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের। তারপর প্রশাসনের তরফে কংক্রিটের বাধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বারবার দেওয়া হলেও তা আজও কার্যকর হয়নি। সুন্দরবনের গোসাবা থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু নদীবাঁধের বেহাল অবস্থা। বুলবুলের সময় একাধিক নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। বুলবুলের পর এইবার আম্ফান। সেই ঝড় আসার আগে ভয়ে সুন্দরবনবাসী।

ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে চলে গিয়েছিল আয়লা
ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে চলে গিয়েছিল আয়লা। বুলবুলের দাপটে ভেঙেছে একাধিক নদীর বাঁধ (মাতলা, বিদ্যাধরী, হোগল)। এবার আম্ফানের পূর্বাভাসে সিঁদুরে মেঘ দেখছে সুন্দরবনবাসী। বুলবুলের সময় মণি, ঠাকুরাণ নদীর বাঁধ ভেঙে একাধিক গ্রামে প্রায় আড়াই ফুট উপরে রাস্তায় জল উঠেছিল। তারপর থেকে প্রশাসনের তরফে কংক্রিটের বাঁধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বারবার। কিন্তু, আজও সেকাজ হয়নি। আম্ফানের পূর্বাভাসে তাই পুরানো আতঙ্কের কথা শোনালেন রায়দিঘি দমকল সীমানা ঘাটের বাসিন্দারা। মানুষের পাশাপাশি বিপদের সম্মুখীন বাঘ।

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৯৬
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৯৬। এখন ৪৩ টি বাঘিনী রয়েছে। ২০১৮ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৮৮ টি। এরপর তা আরও বাড়ে। ১১ টি ছোট্ট বাঘের ছানা ঘোরাফেরা করছে গোটা সুন্দরবন জুড়ে। আর এদের দেখাশোনায় জঙ্গল জুড়ে রয়েছে ৭০০ ক্যামেরা। এই পরিস্থিতিতে বাঘএদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। মানুষদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঘেদের পক্ষে তো সেটা আর সম্ভব না।

আম্ফান মোকাবিলা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য প্রশাসন
এদিকে আম্ফান মোকাবিলা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য প্রশাসন। দফায় দফায় বৈঠক সেরে নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন মহল। আজ অরণ্য ভবনে জরুরি বৈঠক করলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আয়লার স্মৃতি তুলে ধরে আমফান রুখতে আধিকারিকদের যাবতীয় পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

ব়্যাপিড অ্যাকশন টিম
সুন্দরবন চত্বরে বনদফতরের অনেকগুলো অফিস রয়েছে। সেখান থেকেই ব্যাঘ্র প্রকল্পে নজর রাখা হবে বলে মনে করা হয়েছিল। তবে ঝড়ের বেগ এত বেশি থাকবে যে সেখানে থাকা নিরাপদ নয়। সেগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। তৈরি হয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম। সুন্দরবনের ঝড়খালিতে থাকছে এই কন্ট্রোল রুম। এখন ব্যঘ্র প্রকল্পের উপর নজরদারি চলবে সেখান থেকেই। থাকবে ব়্যাপিড অ্যাকশন টিম।

কন্ট্রোল রুম
এছাড়াও হেডকোয়ার্টার অরণ্যভবনে হবে আরও একটি কন্ট্রোল রুম। এখানকার সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলির সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর কোথায় কি অবস্থা, কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথায় কী প্রস্তুতি নিতে হবে তা খতিয়ে দেখবে কন্ট্রোল রুম।












Click it and Unblock the Notifications