কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে ভুলের তালিকা, নিশানায় সিপিএম-এর বঙ্গ ব্রিগেড
১৯৪৬ সালেও যা হয়নি ৭৫ বছরের মধ্যে সেই জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যে বামেরা বিশেষ করে সিপিআইএম (cpim)। বিধানসভা নির্বাচনে 'শূন্য' হওয়ার কারণ হাতড়ে বেড়াচ্ছে তারা। তবে এর মধ্যে ৩৪ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার পরের ১০ বছরে রা
১৯৪৬ সালেও যা হয়নি ৭৫ বছরের মধ্যে সেই জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যে বামেরা বিশেষ করে সিপিআইএম (cpim)। বিধানসভা নির্বাচনে 'শূন্য' হওয়ার কারণ হাতড়ে বেড়াচ্ছে তারা। তবে এর মধ্যে ৩৪ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার পরের ১০ বছরে রাজ্য থেকে একেবারে উধাও হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করেছে দলেরই কেন্দ্রীয় কমিটি (central committee)।

বাংলার মানুষ বিকল্প মনে করেনি সংযুক্ত মোর্চাকে
শূন্য হওয়ার পোস্ট মর্টেম করতে গিয়ে রাজ্য কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করছে, ভোটের আগে হঠাৎ করে যে সংযুক্ত মোর্চা গঠন করা হয়েছিল, তা মেনে নেয়নি রাজ্যের মানুষ। তৃণমূলের ১০ বছরের শাসনকালের ত্রুটি তুলে ধরা সত্ত্বেও বামেদের বেছে না নিয়ে বিজেপিকেই বিরোধী হিসেবে পছন্দ করেছে।

ভালভাবে নেয়নি আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট গঠনকেও
জানুয়ারিতে দল গঠন। আর তার পরেই সেই আইএসএফ-এর সঙ্গে তড়িঘিড়ি জোট গঠন করেছিল রাজ্যের বামেরা। আব্বাস সিদ্দিকি ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগান দিলেও, তাঁর পুরনো অবস্থান অনেক জায়গাতেই ছিল টাটকা। যা নিয়ে নিচুতলায় প্রচারও হয়েছে বেশ। সাধারণ মানুষ সেক্ষেত্রে আইএসএফকে মুসলিম সংগঠন বলেই মনে করেছে। তাঁরা অনেক জায়গাতেই হিন্দু কিংবা আদিবাসী প্রার্থী দিলেও, তা মানুষ মেনে নিতে পারেনি। বলা ভাল সাধারণ মানুষ বামেদের সঙ্গে আইএসএফএ-র জোটকে মেনে নিতে পারেনি। তবে এক্ষেত্রে অনেকের মত ছিল পুরনো ঐতিহ্য ধরে বাম ঐক্যের ওপরে নির্ভর করলেই ভাল হত।

এখনও ব্রাত্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্লোগান
২০০৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্লোগান তুলেছিলেন, কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যত। তার পর থেকে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। সিঙ্গুরে কারখানা প্রায় তৈরি হয়ে যাওয়ার পরে তা ফেলে রেখে রাজ্য ছেড়ে যায় টাটার। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনিচ্ছুকদের জমি ফেরতে দেন। কিন্তু সেই সিঙ্গুরের জমিতে এখনও আর কিছুই ফলে না। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে এবারের নির্বাচনেও কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যত স্লোগান তোলা হয়েছিল বামেদের তথা সিপিএম-এর তরফ থেকে। এই স্লোগান সাধারণ মানুষ ভালভাবে নেয়নি। বরং তা গ্রামের মানুষকে সেই সময়ের পরিস্থিতির কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে।

গুরুত্ব দেওয়া হয়নি মেরুকরণের রাজনীতিকে
রাজ্যে বামেদের ভিত যত আলগা হয়েছে, বেড়েছে মেরুকরণ। কিন্তু যতটা মেরুকরণ হয়েছে, ততটামেনে নিতে চায়নি রাজ্যের বাম বিশেষ করে সিপিএম-এর নেতারা। নির্বাচনী ফল থেকেই ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি সাচার কমিটির রিপোর্টে রাজ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সমানাধিকার এবং সত্তার কথা বলা হলেও, বাংলায় শুধুই নিরাপত্তার কথাই বলা হয়েছে। যা সংখ্যালঘুদের কাছে স্লাঘার বলেই মনে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বুঝতে ব্যর্থ
সিপিএম-এর বঙ্গ ব্রিগেড প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বুঝতেও ব্যর্থ হয়েছে। যতটা না হাওয়া ছিল তারা সেটাকেই অনেক বেশি বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূলও ভোটের আগের শেষ কয়েক মাসে চেষ্টা করে গিয়েছে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়াকে কমাতে। তাতে তারা সফলও হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কতটা সফল হয়েছে, তা আদৌ বোঝার চেষ্টা করেননি এই রাজ্যের সিপিএম নেতারা।

বিজেমূল প্রচারে বিভ্রান্তি
কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে বলা হয়েছে, রাজ্যে বিজেমূল প্রচারে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল এবং বিজেপিকে পাশাপাশি রাখা হয়েছিল। কে বড় শত্রু তা আলাদা করে বলা হয়নি। বামলার মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছেন।

বিজেপি বিরোধী দল হওয়ার জন্য দায়ী তৃণমূলই
সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজ্য কমিটির সমালোচনা করলেও, রাজ্যে বিজেপির উঠে আসার পিছনে তৃণমূলকেই দায়ী করেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে বলা হয়েছে, তৃণমূল রাজ্যে আরএসএস এবং বিজেপিকে জমি তৈরি করে দিয়েছে।
যদিও রাজ্য সিপিএম-এর নেতারা বলেছেন, পার্টি কংগ্রেসের লাইন মেনেই তারা রাজ্যে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ঐক্য গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। এক্ষেত্রে তারা বিজেপি ও কংগ্রেসের থেকে সমদূরত্বের লাইন আগেই বাতিল করেছিলেন। সেক্ষেত্রে সাফল্য না মেলায় কৌশলকে দায়ী করা যায় না।
-
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত -
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা












Click it and Unblock the Notifications