বাংলায় জঙ্গলরাজের কাউন্টডাউন শুরু, ব্রিগেড থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর
কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসমাবেশ থেকে রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, বাংলার মানুষ একসময় বাম আমলে অপহরণ ও হত্যার রাজনীতি দেখেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির আশায় মানুষ পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ভরসা রেখেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের উপর। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।
মোদীর বক্তব্য, বাম আমলের গুন্ডাদেরই এখন দলে টেনে নিয়েছে তৃণমূল। ফলে বাংলায় দুষ্কৃতীদের অবাধ দাপট চলছে বলে অভিযোগ তাঁর। নারী ও শিশুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বাড়ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যে যে কোনও বড় অপরাধের ঘটনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে ঠিক এমনই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সন্দেশখালির ঘটনা কিংবা আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক পড়ুয়ার উপর নৃশংস ঘটনার কথা মানুষ এখনও ভুলে যায়নি।

রাজ্যের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলার যুব সমাজ আজ কাজের খোঁজে রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছে। একসময় যে বাংলা গোটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে, সেই বাংলাতেই আজ তরুণদের হাতে নেই পর্যাপ্ত সুযোগ, না মিলছে ডিগ্রি, না মিলছে চাকরি।
একইসঙ্গে তিনি কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূল এই তিন রাজনৈতিক শক্তিকেই একসঙ্গে আক্রমণ করেন। মোদীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই দলগুলি ক্ষমতায় থেকে নিজেদের স্বার্থই দেখেছে। ফলে বাংলার উন্নয়ন থমকে গেছে, বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি চাকরি নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।
সভায় যোগ দিতে আসা কর্মী সমর্থকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে,পাশাপাশি বিজেপির পতাকা নামিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরেও জনসমাগম আটকানো যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, "বাংলায় জঙ্গলরাজের অবসানের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, ও অত্যাচারের হিসাব নেওয়া হবে।"
রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সড়ক ও রেলপথ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বন্দর ও জলপথও অর্থনীতির জন্য সমান জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা বন্দর ও হলদিয়া বন্দর পূর্ব ভারতের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খিদিরপুর ডকে কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ভাষণের শেষে বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী সুর শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তাঁর কথায়, যে বাংলা একসময় গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছে, সেই বাংলাই আবার উন্নয়নের নতুন দিশা দেখাবে। তাঁর বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই রাজ্য আবার বিকশিত বাংলার পথে এগিয়ে যাবে।
-
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন?











Click it and Unblock the Notifications