কর্নাটক জয়ের পর রাজস্থানেও অ্যাডভান্টেজ কংগ্রেস! কোন অঙ্কে বদলাল সমীকরণ
সম্প্রতি কর্নাটকে বড় জয় পেয়েছে কংগ্রেস। বিজেপিকে উড়িয়ে দাক্ষিণাত্য বিজয় সেরেছেন রাহুল গান্ধীরা। এবার তাদের লক্ষ্য মধ্য ভারতের তিন রাজ্য। মধ্যপ্রদেশকে তো বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেই, রাজস্থান ও ছত্তিশগড় ধরে রাখতেও বদ্ধপরিকর কংগ্রেস। তার মধ্যে রাজস্থানে ক্রমশই অ্যাডভান্টেজ অবস্থানে চলে যাচ্ছে কংগ্রেস।
কর্নাটকের সঙ্গে রাজস্থানের একটি বিষয়ে মিল রয়েছে, তা হল বিজেপির নেতৃত্বের অভাব। বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব কর্নাটকের মতো রাজস্থানেও তীব্র। এতদিন রাজস্থানে বিজেপি ভরসা রেখেছিল নেত্রী বসুন্ধরা রাজের উপর। দুই দশক ধরে রাজ্য বিজেপির প্রভাবশালী বলে তাঁকেই মনে করা হত। কিন্তু এখন বদলাচ্ছে সমীকরণ।

কিন্তু বসুন্ধরা রাজের উপর ভরসা করতে পারছে না বিজেপি। বসুন্ধরা রাজের জায়গায় বিজেপি এখন রাজস্থানে নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে। রাজ্য নেতৃত্বের ভার বসুন্ধরার কাছ থেকে অনেক আগেই কেড়ে নিয়েছে বিজেপি। এখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সিপি জোশী। তিনি সতীশ পুনিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
আর সিপি জোশী বসুন্ধরা রাজের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা। ফলে বসুন্ধরা রাজে কতটা গুরুত্ব পাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। নতুন সভাপতির হাতে নেতৃত্বের ভার দিয়ে বিজেপি কতটা ফায়দা লুটতে পারবে, সেটা বলবে ভবিষ্যৎ। কিন্তু কংগ্রেস তা থেকে কর্নাটকের মতোই ফায়দা লুটতে পারে।

কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পাকে সরিয়ে বাসবরাজ বোম্মাইকে সামনে রেখে লড়েছিল বিজেপি। তার ফল পেয়েছে। এখানেও বসুন্ধরা রাজের মতো জনপ্রিয় নেত্রীকে সাইড করে নয়া নেতৃত্বকে সামনে এনে বিজেপি কতটা ফায়দা লুটতে পারবে, তার উপরও নির্ভর করবে রাজস্থানের ফল।
এই অবস্থায় কংগ্রেস যদি অন্তর্কলহ দূরে সরিয়ে রেখে লড়াইয়ে নামাতে পারে অশোক গেহলট ও শচীন পাইলটকে তাহলেই কেল্লাফতে। বর্তমানে রাজস্থানে কংগ্রেসের সরকার রয়েছে এবং অশোক গেহলট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রাজস্থানে ২০০টি বিধানসভা আসন নিয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিধানসভা নির্বাচনে বসুন্ধরা রাজের নেতৃত্বে বিজেপিকে পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিজেপি এখানে ক্ষমতায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ এটাই রীতি রাজস্থানে। প্রতিবারই পরিবর্তন হয়। কিন্তু এবার তার অন্যথা ঘটার অনকূল পরিবেশ রয়েছে। কী হবে, তা বলবে ভবিষ্যৎ।
এদিকে কংগ্রেস অশোক গেহলট বনাম শচীন পাইলটের পুরনো বিবাদ মিটমাট করে পলেত পেরেছে। রাহুল গান্ধীর এক টোটকাতেই রাজস্থানের দুই জনপ্রিয় প্রবীণ ও নবীনের মধ্যে সম্পর্কের শৈত্য কেটে গিয়েছে। আবার মৃদুমন্দ বাতাস বইতে শুরু করলে রাজস্থানের কংগ্রেস শিবিরে। সেটাই হতে পারে কংগ্রেসের ইউএসপি।












Click it and Unblock the Notifications