খগেন, শঙ্করের পর বিক্ষোভের মুখে বিজেপির মনোজও! মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের ফাঁকেই দিলেন বড় বার্তা
নাগরাকাটায় আজ সকালে আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তৃণমূলই এই ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে বলে দাবি করে বিজেপি। যদিও তৃণমূল পাল্টা বিষয়টিকে জনরোষ বলে চিহ্নিত করেছে।
এরই মধ্যে জলবন্দি একটি দ্বীপ এলাকায় ত্রাণ পৌঁছতে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ। এই আবহে ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের ফাঁকে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন, "আমার আন্তরিক আবেদন, এই দুর্যোগে বহু মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের কষ্ট আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। তবুও, এই কঠিন সময়েও আমাদের মনে রাখতে হবে , একতা ও ধৈর্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সবার কাছে অনুরোধ, সাহস হারাবেন না, সংযম ও সতর্কতা বজায় রাখুন। সরকার ও প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে আছে, এবং আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠব। দয়া করে শান্ত থাকুন, গুজবে কান দেবেন না, এবং চারপাশের মানুষকে সহযোগিতা করুন। এই সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয় , আমরা একে অপরের পাশে থেকে, একসাথে এই সংকটের মোকাবিলা করব।" বিভিন্ন ত্রাণ শিবির ঘুরে দেখার ফাঁকে মুখ্যমন্ত্রী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বামনডাঙায় একটি ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। তবে যেখানে বন্যাদুর্গতরা রয়েছেন সেখানে ৩০-৪০টি গাড়ি নিয়ে গেলে মানুষ দুঃখ পান। কারণ, তাঁদের 'রোটি-কাপড়া-মকান' এখন দরকার। রাজনীতি করার দরকার নেই। তবু রাজ্য পুলিশের ডিজিকে আমি সেখানে পাঠিয়েছিলাম। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। সকলে শান্ত থাকুন। সকলে মিলেই সংকটের মোকাবিলা করতে হয়। এটাই মনুষ্যত্ব, এটাই মানবিকতা।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, আজ যে ঘটনা ঘটেছে তা আমরা সমর্থন করি না। তবে মালদহ উত্তরের সাংসদ ও শিলিগুড়ির বিধায়ক নাগরাকাটাকে তো চেনেন না। তাহলে কীভাবে বুঝলেন যে হামলাকারীরা তৃণমূলের। এই সময় আমাদের মতো অন্যরাও বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে ঘুরতেই পারেন। যদিও গতকালও বিজেপির বিধায়ক, সাংসদদের দুর্গত এলাকায় দেখা যায়নি। আজ মুখ্যমন্ত্রী আসছেন জেনেই তাঁদের তৎপরতা। তাঁরা ত্রাণ দিতে যাননি। মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে সাধারণ মানুষকে আজেবাজে কথা বলে ভুল বোঝাতে গিয়েছিলেন। তারই প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলার সভানেত্রী মহুয়া গোপের কথায়, গত ২ দিনে বিজেপির কোনও বড় নেতা বা স্থানীয় নেতৃত্বকে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে দেখা যায়নি। আজ দুজন নেতা ১০টির বেশি গাড়ির কনভয় নিয়ে ছবি তুলতে এসেছিলেন। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আসেননি। তাতেই স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
এদিকে, কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তিনি বলেন, এখানে এত বছরে ব্রিজ তৈরি করতে পারেনি তৃণমূল। আমরা নৌকা করে এসে ত্রাণ বিলি করেছি। তাতেই গরু, মোষ, বালির অবৈধ কারবারে যুক্ত তৃণমূলীদের গায়ে লেগেছে। সে কারণেই ত্রাণ বিলিতে বাধাদানের চেষ্টা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications