আমিই তাঁদের প্রথম বদলি করব...কাদের উদ্দেশে বার্তা মমতার?
ভ্যানিশ কুমারের জন্য আমার করুণা হয়। চেয়ারকে অসম্মান না করেই বলতে চাই, আমি শুনেছি যে আজ মিটিংয়ে অফিসারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন যে, তিনি শুধু এখনই ব্যবস্থা নেবেন না, মে মাসের পরেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। মে মাসের পর কি আপনার চেয়ার থাকবে? আগে নিজের চেয়ার বাঁচান, তারপর বাংলার অফিসার এবং মানুষকে হুমকি দেবেন।
ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে এভাবেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বলেন, BLO, ERO এবং DEO-রা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বেশ কিছু মানুষ মারাও গিয়েছেন। আপনি কেন একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না? এই মৃত আত্মারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনি উত্তর পাবেন। যে পাপ করে সে কখনও পার পায় না। আপনারা অনেক কিছুর পরিকল্পনা করছেন, তা সে ইভিএম কারচুপি হোক বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া। বিহারে কেন কোনও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নেই? কেন এটা শুধু বাংলাতেই হচ্ছে?
মমতার কথায়, আপনারাই AI ব্যবহার করেছেন এবং পদবিতে ভুল করেছেন। যাঁরা এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় গিয়েছেন তাঁদের নিয়ে আপনারা গোলমাল পাকিয়েছেন। বিয়ের পর বিবাহিত মহিলাদের ঠিকানা পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। অনেক মানুষ ঘরবাড়িও পরিবর্তন করেন। এতে তাঁদের দোষ কোথায়? অনেক মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা আর কত বিজেপিকে সুবিধা করে দেবেন? সব এজেন্সি এখন ওদের হাতে। ভারতে আর কোনও গণতন্ত্র অবশিষ্ট নেই। মাত্র একটি রাজনৈতিক দল টিকে আছে এবং তারা আমাদের গণতন্ত্র সহ সবকিছু আত্মসাৎ করতে চায়।
এরপরই মমতা বলেন, আমি বিজেপি এবং তাদের দিল্লির নেতাদের চ্যালেঞ্জ করছি যে, গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করার ক্ষমতা তাদের নেই, কারণ বুথে তাদের কোনও এজেন্ট নেই। সেই কারণেই তারা এজেন্সি ব্যবহার করে। এখানে আপনাদের লিফলেট বিলি করার জন্য কেন এজেন্সি ভাড়া করতে হল? তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। ওদের প্রথম পরিকল্পনা হলো, নির্বাচনের আগে পর্যন্ত ভোটারদের বাদ দেওয়া। তাদের দ্বিতীয় পরিকল্পনা হল ইভিএমে কারচুপি করা। আমরা পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করব। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিই, গণনার দিন তারা প্রথমে সেই আসনগুলো দেখাবে, যেগুলোতে বিজেপি এগিয়ে থাকবে। আমরা যে আসনগুলোতে এগিয়ে থাকব, সেগুলো পরে দেখানো হবে।
মমতা আরও বলেন, জনগণকে ভুল বার্তা দিতে এবং আধিকারিকদের ভয় দেখাতে ও প্রভাবিত করতে তারা এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করবে। আমি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই যে, আপনারা যদি সত্যিই জনগণের রায় নিয়ে জিততে চান, তবে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন। আমাদের একটাই দাবি। আপনাদের অবশ্যই মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে, কারণ তারা এই ভারতেরই নাগরিক।
মমতা এদিন বলেন, মহাত্মা গান্ধীকে তিনটি গুলি মেরে হত্যা করা হয়েছিল। এখন গণতন্ত্রকে হত্যা করতে CAA, SIR এবং NRC ব্যবহার করা হচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ED এবং CBI। তারা সেনাবাহিনীকেও রেহাই দেয়নি। কিছু জায়গায় সেনা সদর দফতরকে তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা হয়েছে। সেই কারণেই তারা [সেনাবাহিনী] আমাদের মঞ্চ ভেঙে দিতে গিয়েছিল। ওরা আগে কখনও এমনটা করেনি। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্টভাবে কাজ করছে। রেলের অফিসাররা বদলি হওয়ার ভয়ে ভীত। মনে রাখবেন, আমরা এই সবকিছুর রেকর্ড রাখছি। বিজেপি ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত হয়তো আপনাদের বদলি করা হবে না। বিজেপি ক্ষমতা হারানোর পর কী হবে? আমিই প্রথম ব্যক্তি হব যে, আপনাদের বদলি করবে।
মমতা বলেন, হিন্দু ও মুসলিম উভয়ের নামই নির্বিচারে বাদ দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে। ওরা 'এম' (M) অক্ষরটি নিয়ে ঈর্ষান্বিত। সেই কারণেই তারা আমাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত, কারণ আমার নাম 'এম' (M) দিয়ে শুরু হয়। ওরা হিন্দিভাষীদের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, আমি বাংলায় মুসলিমদের নিয়ে এসেছি। আমি আবারও বলছি-যখন ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ এক দেশ ছিল, তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম উভয়েই স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। স্বাধীনতার পর অনেক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। যারা এখানে থেকে গেছে বা ভারতে এসেছে, তারা সকলেই ভারতীয়।
মমতা বলেন, আপনারা জোর করে আমাদের হারানোর চেষ্টা করছেন। আপনারা নির্বাচনের ফল বেরোনোর আগেই তা ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচন কমিশন বলে, নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব। তাহলে বাংলা এবং বিহারে SIR-এর জন্য আলাদা নিয়ম কেন? কিছু মানুষ এতটাই লোভী যে, তারা যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত। নতুবা তাদের ED, CBI এবং ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে ভয় দেখানো হয়। মনে রাখবেন, ওদের হাতে ED, CBI, BSF, CISF, SSB এবং ইনকাম ট্যাক্স আছে। ওদের নিয়ন্ত্রণে সব এজেন্সি থাকতে পারে, তবুও বাংলার মানুষ ২০২৬-এর নির্বাচনে ওদের বিদায় দেবে।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতা বলেন, যাঁরা অফিসারদের হুমকি দিচ্ছেন, তাঁদের বলে রাখি যে, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আমাদের অফিসাররা দুই মাস পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সাথে সামাল দেবেন। তারপর মে মাসের পর আপনারা কোথায় থাকবেন তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তিনি নিজেকে স্পাইডারম্যান মনে করেন এবং যা খুশি করতে পারেন বলে ভাবেন! আপনাদের মতো মানুষরাই গণতন্ত্র ধ্বংস করে। বিজেপি ভারতকে বিক্রি করে দিয়েছে। বিজেপি এই দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে। ওরা সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছে! পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য, যা ওরা জোর করে দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণেই ওরা বাংলা দখলের লোভ সামলাতে পারছে না। গতবার ওরা বলেছিল যে, ওরা ২০০টি আসন জিতবে। ওরা ১০০-র গণ্ডিও পেরোতে পারেনি। এবার আমরা ওদের দিল্লি থেকে ছুড়ে ফেলে দেব!
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের কথা নিয়ে মমতা বলেন, সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপালকে যেভাবে সরানো হয়েছে, তার মধ্যে কোনও রহস্য আছে। আমি সত্য সামনে আনব। ওরা লোক ভবনকে বিজেপি ভবনে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করেছে। সেখানে টাকার লেনদেন হবে। সেই কারণেই ভোটের ঠিক আগে এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications