উত্তরবঙ্গে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, ম্যান মেড বন্যা নিয়েও তোপ
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আজ উত্তরবঙ্গে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ি হয়ে তাঁর নাগরাকাটা যাওয়ার কথা। যাবেন মিরিকেও।
তার আগে এদিন দমদম বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন। আশ্বাস দিলেন পর্যটকদেরও। বন্যা পরিস্থিতির জন্য তোপ দাগলেন কেন্দ্রের দিকে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত দু'রাত ধরে তিনি নিজে এবং মুখ্য সচিব, পুলিশের ডিজি উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কলকাতায় ৬ ঘণ্টায় ৩০০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছিল পুজোর আগে। ঠিক একইভাবে উত্তরবঙ্গেও টানা ১২ ঘণ্টা ৩০০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এরপর ভুটান থেকে সংকোশ হয়ে জল এসেছে এবং সিকিমের জলেও বহু এলাকা প্লাবিত।
মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আজ যখন আসছিলাম, দেখলাম গঙ্গা ভর্তি এবং কাল ও পরশু জোয়ার রয়েছে। আমরা আর কত রাজ্যের জল সামলাতে পারি?" তিনি বিহার বা উত্তরপ্রদেশের বৃষ্টির জল ফরাক্কা ব্যারাজ হয়ে গঙ্গার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, ডিভিসি-র জল ছাড়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "ডিভিসি ইচ্ছামতো জল ছাড়ছে। ওরা নিজেদের ও ঝাড়খণ্ডকে বাঁচাচ্ছে। আমি চাই ঝাড়খণ্ড সুরক্ষিত থাকুক, কিন্তু ওরা কেন নদীগুলির পলি পরিষ্কার করছে না?"
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "গত ২০ বছর ধরে এই কথা বলতে বলতে আমি ক্লান্ত। মাইথন, ডিভিসি, পাঞ্চেত - এদের জল ধারণের ক্ষমতাও নেই। তাহলে এগুলো রেখে লাভ কী? এগুলো না থাকলেই ভালো হতো। জল স্বাভাবিকভাবে ঢুকতো এবং বেরিয়ে যেত, সবাই সমানভাবে চাপ সামলাতে পারতো। কিন্তু এখন আমরা এর ফল ভোগ করছি, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ।" তিনি জানান, দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার ফলে জলের তীব্র বেগে সেতু এবং অন্যান্য কাঠামো ভেঙে যাচ্ছে।
ভুটান সরকার গতকাল একটি চিঠি পাঠিয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী তাদের কাছে ধীরে ধীরে জল ছাড়ার অনুরোধ করেছেন। কারণ জল ছাড়ার পর তা এখানে পৌঁছতে ২-৩ দিন সময় লাগে। এত জল ছাড়ার ফলে নাগরাকাটা, ধূপগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, মাটিগাড়া, দার্জিলিং ও মিরিকের বহু এলাকা ভেসে গেছে। নাগরাকাটা এবং মিরিক, সেইসঙ্গে জোড়বাংলো ও কালিম্পং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সব পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের একজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। কারণ, তিনি খুব প্রত্যন্ত এলাকায় ছিলেন। তবে বাকি ৫০০ জনকে আজ ৪৫টি ভলভো এবং উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিলিগুড়িতে ২৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য হোটেলগুলোকে কোনো চার্জ না নিতে বলা হয়েছে, সরকার এর ব্যবস্থা করবে। পুলিশ তাঁদের নিরাপদে পৌঁছনো পর্যন্ত তাঁরা হোটেলে থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দায়িত্ব আমাদের, কারণ এই বন্যায় সব কিছু, টাকা, সম্পত্তি, জীবিকা ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু সব পর্যটক নিরাপদ; পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করেছে।"
পুলিশ মিরিক থেকে নাগরাকাটা পর্যন্ত কমিউনিটি কিচেন চালু করেছে। ডিজিপি সেখানে গেছেন এবং মুখ্য সচিব তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। অরূপ বিশ্বাস এবং গৌতম দেব ধূপগুড়িতে গিয়েছেন। মুখ্য সচিবকে নিয়ে তিনি নিজে হাসিমারা এবং তারপর নাগরাকাটার দিকে যাচ্ছেন বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেখি যতটা সম্ভব পৌঁছনো যায়। রাস্তাগুলো প্লাবিত, এমনকী বিডিও অফিস এবং থানাগুলোও জলের নীচে। তা সত্ত্বেও, চা বাগানগুলিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব। রাতে হাসিমারা থেকে বাগডোগরায় ফিরে আসবেন এবং আগামীকাল মিরিকে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য সচিব।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এর আগে জল ছাড়ার ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম বন্যায় কলকাতায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই বিপর্যয় বিহার থেকে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড পর্যন্ত সর্বত্র ঘটছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলা একটি নৌকার মতো; সব জল এখানে প্রবাহিত হয়। যদি ফরাক্কা, কলকাতা পোর্ট বা হলদিয়ায় সঠিকভাবে ড্রেজিং করা হতো, অথবা ডিভিসি-র পাঞ্চেত ও মাইথনের জল ধারণ ক্ষমতা থাকতো, তাহলে এটি ঘটতো না। আমরা ইতিমধ্যেই ৫.৫ লক্ষ পুকুর এবং ৫০০টি চেক ড্যাম তৈরি করেছি। জল ব্যবস্থাপনার জন্য। কিন্তু তারপরেও গঙ্গাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। গঙ্গা যদি ভর্তি থাকে তাহলে আমাদের জল কোথা দিয়ে বেরোবে।
মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, "ওরা ভোট কারচুপির জন্য যে টাকা ব্যবহার করে, নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে, তা বাংলার বন্যা, রাস্তা, আবাসন, সব কিছুর তহবিল আটকে রাখার টাকা" তিনি উল্লেখ করেন, জিএসটি কার্যকর করা হলেও, যা তারা জনগণের স্বার্থে সমর্থন করেছিলেন। এ জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কেন্দ্র থেকে ১.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা তাদের প্রাপ্য। এর সঙ্গে আরও ২০,০০০ কোটি টাকা যোগ হলো। "আমরা টাকা পাবো কোথা থেকে?" প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, "তবে আমরা কখনও জনকল্যাণে পিছিয়ে থাকব না।" সন্দেশখালিতে ঝোড়ো হাওয়ায় যখন বাড়িঘর ভেঙেছিল, পরের দিনই সেগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়। মুখ্মন্ত্রী বলেন, দার্জিলিং, কালিম্পং ও মিরিকে ১৮ জন ও নাগরাকাটায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানা গিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। টাকা জীবনের ক্ষতিপূরণ হতে পারে না। তবে এটি সেই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। কোনও অনুদান নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। সেই পরিবারগুলির প্রতি সদস্যকে হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ৭ ও ৮ তারিখে হাই টাইড থাকবে। ডিভিসি-র পাঞ্চেত এবং মাইথন থেকে জল ছাড়ার কারণে ঘাটালে ইতিমধ্যে জল জমেছে, যা একটি নীচু এলাকা। কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ২০ বছর পরও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হয়নি, তাই আমরাই সেটি করছি। কিন্তু এটি সম্পন্ন হলেও, যতক্ষণ ডিভিসি এভাবে জল ছাড়তে থাকবে, ততক্ষণ আমাদের এর মোকাবিলায় অন্য উপায় বের করতে হবে। সিকিমে তিস্তার ওপর ৪০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে; সেই জল কোথায় যাবে? সেটি শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া এবং কালিম্পং-এ আসছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ওরা অর্থ উপার্জন করছে, আর আমরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ওরা সিকিমের মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শিলিগুড়িতে ব্যবসা করছে। ওরা ৯০ শতাংশ ভর্তুকি পায়। আমরা সিকিমকে সাহায্যপ্রাপ্ত রাজ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। অটলবিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন আমরা একটি বাংলা প্যাকেজ তৈরি করেছিলাম। আমরা কেন্দ্রে না গিয়েও সিকিমকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। আমি পাহাড় ভালোবাসি, কিছুদিন আগে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। লক্ষ্মীপূজার দিন আমাকে আবার সেখানে যেতে হবে, কারণ যখন কোনও বিপর্যয় আসে, তখন উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ নয়, মানুষের কল্যাণ এবং মানসিকতা আগে আসে।"
-
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি












Click it and Unblock the Notifications