'ভাই বোনেদের চাকরি থাকায় আমি খুশি’! হাইকোর্টের রায় শুনে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা, আর কী বললেন তিনি?
প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট আজ তার রায় শুনিয়েছে। এই রায় শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন যে, চাকরি দেওয়া দরকার, খেয়ে নেওয়া নয়। এসএসসির ২৬ হাজারের পর এবার নজরে ছিল ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি। অবশেষে আজ কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় দিয়েছে। স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ৩২ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় বাতিল করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। কলকাতা হাই কোর্টের রায় অনুসারে, ৩২ হাজার চাকরি প্রার্থীর কাজ থাকছে।

আজ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যাঁরা ৯ বছর ধরে চাকরি করে আসছে তাদের যদি এখন চাকরি চলে যায় তাহলে তাঁরা অনেক সমস্যায় পড়তে পারেন। হাইকোর্টের এই রায়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি খুব খুশি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক বার সরব হয়েছিলেন। কলকাতা হাই কোর্ট আজ রায় ঘোষণা করার পর তিনি বলেন, "হাইকোর্টের এই বিচারকে এবং রায়কে শ্রদ্ধা করি। আমি খুব খুশি। আমার ভাই বোনদের চাকরি সুরক্ষিত রাখতে পেরেছি।"
চাকরি থাকার রায় ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও মুখ খুলেছেন। তিনি নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, "মহামান্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের আজ রায় ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন জানাই। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পুরোপুরি ভাবে সুরক্ষিত থাকল। শিক্ষকদেরও অনেক শুভেচ্ছা। আজ সত্যের জয় হল।"
কী যুক্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ হল?
হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২০২৩ সালে ৩২ হাজার শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার রায় দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি সম্পূর্ণ ইন্টারভিউ প্রসিডিওর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল যে, গোটা ইন্টারভিউ পদ্ধতিতেই ভুল ছিল। সেই কারণে তিনি চাকরি বাতিল করেছিলেন।
আজ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যাঁরা ৯ বছর ধরে চাকরি করে আসছে তাদের যদি এখন চাকরি চলে যায় তাহলে তাঁরা অনেক সমস্যায় পড়তে পারেন। সেই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্য়য় নেমে আসতে পারে।
বিচারপতিদেরও বক্তব্য, চাকরিরত থাকাকালীন এই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আসেনি। কয়েকজন অসফল প্রার্থীদের জন্য গোটা প্রক্রিয়ার ক্ষতি করা যেতে পারে না।












Click it and Unblock the Notifications