ভোটে নতুন ট্রেন্ড! দাড়ি কাটা থেকে রান্না, ভোটারদের মন জিততে নজিরবিহীন প্রচারে প্রার্থীরা
একসময় পশ্চিমবঙ্গের ভোট মানেই ছিল মাইক, মিছিল এবং প্রতিশ্রুতির বন্যা। কিন্তু এখন ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। প্রচারের জন্য বক্তৃতার বদলে মানুষের জীবনে সরাসরি ঢুকে পড়েই মন জয় করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।

বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা একেবারে অন্য পথে হেঁটেছেন। প্রচারে বেরিয়ে তিনি এক ভোটারের দাড়ি নিজেই কামিয়ে দেন। এই ঘটনাকে কেউ বলছেন 'গ্রাউন্ড কানেকশন', আবার কেউ মজার ছলে বলছেন 'ফ্রি সেলুন সার্ভিস'। হ্যাঁ, ঠিক এরকমই অবাক করা কাণ্ড দেখা গিয়েছে বীরভূমের দুবরাজপুরে।
অন্যদিকে আবার হুগলির পুরশুড়ায় তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি ভোট চাইতে গিয়ে একটি বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন। সেখানে বসেই তিনি রুটি বেলতে শুরু করেন। রান্নার ফাঁকেই তিনি আবার গ্যাসের অভাব নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষও করেন। আর সেই দৃশ্য ঘিরে বাড়ির মধ্যেই স্লোগান শুরু হয়ে যায় এবং এক অদ্ভুত প্রচারের পরিবেশ তৈরি হয়।
আরামবাগে সিপিএম প্রার্থী বিথিকা পাণ্ডিত আবার হাসপাতালের সামনে জমে থাকা বৃষ্টির জল নিজেই সরাতে নেমে পড়েন। তাঁর সঙ্গে আবার দলের কর্মীরাও যোগ দেন।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের ডোমকলে তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীরকে প্রচারের মাঝখানেই চা বানিয়ে তা পরিবেশন করতে দেখা যায়।
এছাড়া বাম রাজনীতিতেও বদলের ছাপ একেবারে স্পষ্ট। উত্তরপাড়ায় সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি-কে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। পানিহাটিতে কলতন দাশগুপ্ত-ও মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছেন।
সমস্তটা মিলিয়ে, এই বারের ভোট যেন একেবারে আলাদা রঙে রাঙানো, কোথাও দাড়ি শেভ, কোথাও রান্না, কোথাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। প্রার্থীরা এখন ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর জন্য নিত্যদিনের কাজকেই হাতিয়ার করে নিয়েছেন। আর ভোটারদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে যে, ভোটের পরেও কি এই 'সেবা' চলবে?












Click it and Unblock the Notifications