অভিমানের পাহাড় গলাতে পারলেন না ব্রাত্য-কুণালরা! দল ছাড়ার পরে বিধায়ক পদে ইস্তফা তাপস রায়ের
অভিমান জমে কি পাহাড় হয়ে গিয়েছে? সেই পাহাড় টপকাতে পারলেন না মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কুণাল ঘোষ সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব? দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন তাপস রায়। বিধানসভায় গিয়ে পদত্যাগ করলেন বিধায়ক তাপস রায়। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে তাপস রায় জানিয়েছেন, তিনি পয়লা মার্চ দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়েছেন।
বরানগরের বিধায়ক তাপস রায় দীর্ঘ দিন ধরেই ক্ষুব্ধ। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আর সেই মনোমালিন্যই তৃণমূলের সঙ্গে কি দূরত্ব তৈরি করল? সোমবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে বিধানসভায় গেলেন তাপস রায়। বিধায়ক পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিলেন।

তাপস রায় গতকাল রবিবারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি দল ছাড়ছে চলেছেন। তার আগে তিনি বিধায়ক পদও ছাড়বেন। তারপর থেকেই তৃণমূল অন্দরে শুরু হয় চাপানউতোড়। তাপস রায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূলের কমিটির উপরের সারিতে আছেন। নেতারা তাঁকে বোঝাতে শুরু করেন।
সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক তাঁকে বোঝান। সোমবার সকালে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষও তাপস রায়ের বউবাজারের বাড়িতে যান। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড়ই থাকলেন বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়।
বউবাজারের বাড়িতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন তিনি। তাঁর ক্ষোভের কথা বললেন। শুধু তাই নয়, দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও সেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। তাঁর বাড়িতে ইডি অভিযান নিয়ে দলনেত্রী একটা কথা পর্যন্ত বলেননি। সেই বিষয়ে যথেষ্ট হতাশ তাপস। সব কিছু বিবেচনা করেই বিধায়ক পদ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
বরানগর কেন্দ্রে তিনি সবসময়ই যেতেন। তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে জনসংযোগও রাখেন। তবে ২১ ফেব্রুয়ারির পর আর তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে যাননি। বিধানসভাতেও তিনি গড়হাজির ছিলেন বলে খবর৷ নিজেকে বাড়ি ও চেনা গণ্ডিতে আবদ্ধ করে নিয়েছিলেন পোড়খাওয়া এই রাজনৈতিক নেতা।
বিধায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। এবার তৃণমূল দল ছাড়াও সময়ের অপেক্ষা। তাহলে এরপর তাপস রায়ের রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে? সেই জল্পনা আরও বাড়ছে।












Click it and Unblock the Notifications