এসআইআরের চাপে বাঁকুড়ার বিএলও আত্মঘাতী! অভিষেকের নিশানায় কমিশন ও বিজেপি
বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ ব্লকে এক বুথ লেভেল অফিসারের মৃত্যু। এসআইআরের কাজের চাপেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মৃত বিএলও হারাধন মণ্ডল ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি রানিবাঁধ ব্লকের ২০৬ নম্বর বুথে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। আজ সকালে একটি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সেখান থেকে একটি 'সুইসাইড নোট' পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই নোটে হারাধন মণ্ডল বিএলও হিসেবে অতিরিক্ত কর্মচাপ সামলাতে না পারার কথা উল্লেখ করেছেন। পুলিশ নোটটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত ও নিয়োজিত আরও একজন বিএলও (BLO) তড়িঘড়ি করা, বিশৃঙ্খল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার অমানবিক চাপে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
অভিষেক লেখেন, ২৪৯ রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রের ২০৬ নম্বর পার্টের হারাধন মণ্ডল আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর সুইসাইড নোটে তিনি এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর ওপর অর্পিত কাজের অমানবিক প্রকৃতিকে স্পষ্টভাবে দায়ী করে গেছেন।
বিজেপির নির্বাচনী ফায়দা তোলার জন্য পরিকল্পিত একটি 'ভোটার-শুদ্ধি' অভিযানের ফলে সৃষ্ট আতঙ্ক, উদ্বেগ, ক্লান্তি এবং ভয়ে ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি প্রাণ ঝরে গেছে।
যা একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত ছিল, তাকে একটি আজ্ঞাবহ ও অনুগত নির্বাচন কমিশন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। একটি নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক অঙ্ক মেলাতে এবং একজন ব্যক্তির অহং চরিতার্থ করতে তারা নিজেদের মেরুদণ্ড বিকিয়ে দিয়েছে। আর বিজেপির কাছে, মানুষ যদি ক্লান্তি, হতাশা বা আতঙ্কে মারাও যায়, তবে সেটা তাদের কাছে নেহাতই একটি গ্রহণযোগ্য আনুষঙ্গিক ক্ষতি (collateral cost) এবং তাদের ক্ষমতার খেলার একটি সুবিধাজনক পাদটীকা মাত্র। ইতিহাস সবকিছু দেখছে। বাংলা ক্ষমা করবে না এবং বাংলা ভুলবে না।












Click it and Unblock the Notifications