তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন কতজন সাংসদ-বিধায়ক, মমতার বৈঠকের দিকে কড়া নজর বিজেপির
তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন কতজন সাংসদ-বিধায়ক, মমতার বৈঠকে কড়া নজর বিজেপির
তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কয়েকদিন আগেই ফলাও করে জানিয়েছিলেন, বিজেপি ৩ জন সাংসদ ও ১১ জন বিধায়ক তৃণমূলে আসতে চাইছেন। অনেক দলবদলু আবার তৃণমূলে ফেরার জন্য আবেদন করে বসে আছেন। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎ করেই কালীঘাটে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক ডেকেছেন। তাই বিজেপির নজর এখন কালীঘাটের দিকে।

তৃণমূলের বৈঠকে নজর বিজেপির, কারণ সম্পূর্ণ উল্টো
ভোটের আগেও বিজেপি কালীঘাটের দিকে নজর রেখেছিল। তখন নজর ছিল তৃণমূলের বৈঠকে কে আসছেন না, কে বেসুরো বাজছেন, তাঁদের বঁড়শিতে গাঁথার জন্য। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বৈঠকে নজর রাখার কারণ সম্পূর্ণ উল্টো। বিজেপি এখন দেখতে চাইছে, দলবদলুদের নিয়ে তৃণমূল কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। বা তৃণমূলের মুখপাত্র যে দাবি করেছেন, তা কতটা যুক্তিপূর্ণ।

কতজন সাংসদ ও বিধায়ক পাল্টি খেতে পারে, জল্পনা
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিজেপি এখন আতঙ্কে রয়েছে তাদের দলেও নামতে পারে ধস। তৃণমূলের তরফে যে সংখ্যক সাংসদ-বিধায়কের কথা বলা হচ্ছে, তার থেকে বেশিই দল ছাড়তে পারে। এই সংখ্যাটা হতে পারে ৮ জন সাংসদ ও ৩১ জন বিধায়ক। অন্তত রাজনৈতিক মহলে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের বৈঠক কি দলবদলুদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই
বিজেপি মনে করছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা ভোটের পর তড়িঘড়ি এই বৈঠক ডেকেছেন দলবদলুদের নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে, সেই ব্যাপারে আলোচনা করতে। এবার বৈঠক ভার্চুয়াল নয়, সবাইকে সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সাংগঠনিক পদাধিকারী ও সমস্ত বিধায়ক-সাংসদদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

বিজেপি এখন তৃণমূলের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে
বিজেপির ধারণা, তৃণমূল এই বৈঠক থেকে জানতে চাইছে অন্য দল ভাঙিয়ে জনপ্রতিনিধিদের দলে নিলে কী প্রভাব পড়বে। আর দলবলুদের ফেরালেই কে কেমন ভাবে নেবে বিষয়টিকে। সবাই কি সমর্থন করবে? কে কেমনভাবে বিষয়টি নেয়, তা জানাই ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য। বিজেপিও তাই ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে।

তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেদন, সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া অনেকেই ফের তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেদন করছেন। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলা চিঠি দিয়েছেন, কেউ রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি লিখেছেন আর কেউ বা সংবাদমাধ্যমের সামনে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। আবার গোপনে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন তৃণমূলের সঙ্গে। এঁদের নিয়ে তৃণমূল কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার।

তৃণমূলের বৈঠক ডাকার পিছনে কি রয়েছে ২১ জুলাই
শুধু তাই নয়, বিজেপি শিবির থেকে কোন কোন সাংসদ ও বিধায়ক তৃণমূলে ভিড়তে চাইছেন, সেদিকেও নজর রাখতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তবে শুধু দলবদলই ইস্যু নয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন এই বৈঠক ডাকার পিছনে রয়েছে ২১ জুলাই। কেননা এখনও বিজয় মিছিল করা হয়নি তৃণমূলের। তবে করোনা পরিস্থিতিতে তা করার কথা নয় বলেই অভিমত।

একুশের ২১ জুলাইয়ের সভা স্মরণীয় করে রাখতে...
রাজনৈতিক মহলে আবার এমন জল্পনাও বাসা বেঁধেছে যে, একুশের ২১ জুলাইয়ের সভা স্মরণীয় করে রাখতে বিরাট যোগদান মেলা হতে পারে। তবে সবই এখন ভাবনার পর্যায়ে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে। এরই মধ্যে একটা পক্ষ বলছে, সব সাংসদ ও বিধায়ককে ডেকে ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications