তৃণমূলে ন্যূনতম সম্মান নেই, দুই প্রাক্তন সাংসদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্ফোরক একদা মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধায়ক
তৃণমূলে ন্যূনতম সম্মান নেই, দুই প্রাক্তন সাংসদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্ফোরক একদা মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধায়ক
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তৃণমূলে (trinamool congress) ফেরার পরেই যাঁদের মুকুল রায় (mukul roy) ফোন করেছিলেন, সেই তালিকায় ছিলেন এবারের নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়ক (bjp) মিহির গোস্বামী (mihir goswami) । মুকুল রায় তাঁকে ফোন করেছেন কিনা তা স্পষ্ট না করলেও, ফেসবুক পোস্ট করে জল্পনা উড়িয়েছেন।

ভোটের বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই বিক্ষুব্ধ
বেশ বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তৎকালীন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তারপর তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। এরপর তৃণমূলে সম্মান না থাকার অভিযোগ তুলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করে নাটাবাড়ি থেকে। সেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে হারিয়ে জয়লাভ করেন।

মুকুল রায়ের তৃণমূলে যাওয়ার পরেই জল্পনা শুরু
মুকুল রায় তৃণমূলে ফেরার দেওয়ার পরেই যাঁদের নিয়ে জল্পনা শুরু হয়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিহির গোস্বামী। বিজেপি সূত্রেই উঠে আসে, মুকুল রায় যাঁদেরকে ফোন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নাটাবাড়ির বিজেপি বিধায়কও।

ফেসপুক পোস্টে জল্পনা উড়িয়ে প্রাক্তন ২ সাংসদকে নিশানা
এরপরেই ফেসবুক পোস্ট করে দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে দেন মিহির গোস্বামী। পাল্টা তিনি তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, সত্যিই বাংলার রাজনীতিতে এ এক তুলনাবিহীন আশ্চর্য দল। তিনি বলেছেন, রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর ধুতি ধরে টানাটানি লাঞ্ছনা করলে পরে তার ইনাম হিসেবে সেই দলে সমাদরে ঢুকে শ্রমিক না হয়েও শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি পর্যন্ত হওয়া যায়। রাজ্যে ক্ষমতাসীন সেই দলের প্রবল ক্ষমতাবান সাংসদ চুরির দায়ে মাসের পর মাস জেলে থাকাকালীন তাঁকে প্রকাশ্যে কিছুতেই মুখ খুলতে দেয় না পুলিশ, তিনি জামিন পেয়ে বাইরে এসে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে যাবতীয় বিষ উগড়ে দেন, দলের সুপ্রিমোসহ সবাইকে চোর আখ্যা দেন, সরকারি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ আনেন, সেই তিনিই শেষমেশ আবার দলের মুখপাত্র ও উচ্চ পদাধিকারী হয়ে সম্পূর্ণ উলটো গাইতে শুরু করেন। এক্ষেত্রে প্রথমজন হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দ্বিতীয়জন হলে কুণাল ঘোষ।

সম্মান নেই তৃণমূলে
কটাক্ষ করে মিহির গোস্বামী বলেছেন, গত দুই দশক ধরে অনেক এমন সার্কাস তারা দেখেছেন এই দলে। এই দলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে হেরে গেলে পদ মেলে গাড়ি মেলে লালনীল বাতি মেলে, কিন্তু জিতে গেলে সেসব নাও মিলতে পারে। এ দলে ভেতরে থেকে হাজার অকথা-কুকথা বললেও বা অকাজ-কুকাজ করলেও কোনওদিন কারও শাস্তি হয় না, উলটে পুরস্কৃত হতে পারে। এ দল ছেড়ে গেলে সে অবশ্যই 'গদ্দার', কিন্তু ফিরে এলে সে আর কিছুতেই 'গদ্দার নয়'। মাথা নিচু করে ভিক্ষা চাইলে দুটো রুটি বা পয়সা ছুঁড়ে দিতে পারে, কারও এলেম থাকলে দেহরক্ষী-গাড়ি-বাড়ি সমেত দিল্লির বৃদ্ধাশ্রমে পুনর্বাসন মিলতে পারে, কিন্তু কখনও কোনওদিন এই দলের কাছ থেকে যদি ন্যুনতম সম্মানটুকু আশা করেন তবে উত্তর পাবেন, নো। নেভার।

গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল
যদিও মিহির গোস্বামীর এই কথায় গুরুত্ব দিতে নারাজ কোচবিহার জেলা তৃণমূল। জেলা তৃণমূল সভাপতি পাল্টা আক্রমণ করে বলেছেন, যাঁরা মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য রাজনীতিতে জায়গা পেয়ে, পরে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, তাঁদের কথার কোনও গুরুত্ব নেই।












Click it and Unblock the Notifications