বাঙালিই স্বাধীনতার লড়াইয়ের অগ্রদূত, মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড়
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের মুখে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। তিনি স্বাধীনতার জন্য বাঙালির অবদান ও গুজরাটিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে যেখানে তৃণমূল নেতারা বিজেপির বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে মহুয়া বলেন,
"বাঙালি জাতি খুবই গর্বিত। আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ নেতৃত্ব দিয়েছি। কিন্তু গুজরাটিরা কোথায় ছিলেন? কালাপানি কারাগারে নিহত ও বন্দি ব্যক্তিদের ৬৮ শতাংশ বাঙালি, তার পর পাঞ্জাবি। একটি মাত্র গুজরাটি কি বলে দিতে পারবেন, আপনার বীর সাভারকর ছাড়া, যে শুধু ক্ষমা চাওয়ার চিঠি লিখতে চেয়েছিলেন?"

তিনি আরও যোগ করেন, "আপনারা প্রতিটি বাঙালিকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছেন, ও এটা চার ধাপে করেন, প্রথমে অপমান, তারপর বঞ্চনা, তারপর অপরাধী বানানো, ও অবশেষে হয়রানি করা। আর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি ৬,০০০ এর কাছাকাছি মামলা করেছে, ৯৮ শতাংশ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু কেবল ২৫ জনকেই দণ্ডিত করেছেন, যা মাত্র ০.৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার কে আরও তীব্র করে তোলেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বিরুদ্ধে "চার্জশিট" প্রকাশ করে নির্বাচনের বিষয়টিকে শুধু বঙ্গের নয়, দেশের নিরাপত্তার লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
শাহ বলেন, "১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনের পরে পশ্চিমবঙ্গ এখন দেশের 'প্রধান পথ' অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য। তৃণমূলের সংরক্ষণমূলক রাজনীতি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে।"
তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের "ভুক্তভোগী রাজনীতি" আক্রমণ করে বলেন, "মমতা দিদি সবসময় ভুক্তভোগীর কার্ড খেলেন। কখনও নিজের প্রশংসার কথা বলেন, কখনও নির্বাচন কমিশনকে গালিগালাজ করেন। কিন্তু বাঙালিরা এখন এই ভুক্তভোগী রাজনীতি বুঝতে পেরেছে।"
শাহ অভিযোগ করেন,
"নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর অন্যান্য রাজ্যেও হয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র বাংলায় এটিকে বড় ইস্যু করা হয়েছে, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করতে চাচ্ছেন।"
শাহ আরও বলেন, অসমের অনুপ্রবেশ প্রায় বন্ধ হওয়ার পর, পশ্চিমবঙ্গ এখন শেষ পথ, যেখানে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে প্রবেশ করছে ও বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, "বাংলার নির্বাচন শুধু বঙ্গের নয়, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা তৃণমূল সরকারের সংরক্ষণমূলক রাজনীতির কারণে হুমকির মুখে।"
তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বারবার অনুরোধের পরও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি প্রদান করেনি।












Click it and Unblock the Notifications