বঙ্গ রাজনীতিতে মমতা চন্দ্রগুপ্ত হলে সুব্রত ছিলেন চাণক্য
বঙ্গ রাজনীতিতে মমতা চন্দ্রগুপ্ত হলে সুব্রত ছিলেন চাণক্য
সিপিএম নেতারা একসময় বলতেন ইন্দিরার দুটি পুত্র, 'প্রিয়রঞ্জন ও সুব্রত'। জাতীয় কংগ্রেসে ছাতৃর রাজনীতির মধ্যে দিয়েই উঠে এসেছেন নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৬ সালের ১৪ অগাস্ট কলকাতায় জন্ম নেওয়া সু্ব্রত মাত্র ২৬ বছর বয়সে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মন্ত্রী সভার তথ্যসংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী হন৷ বঙ্গবাসী কলেজ থেকে অ্যানথ্রোপলজি নিয়ে স্নাতক হয়েছিল সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পরে এমএসসিও করেন৷

২৬ এই মন্ত্রী হয়েছিলেন সুব্রত
অল্প বয়সে, ১৯৭২ সাল থেকে পাঁচ বছর রাজ্যে কংগ্রেসী সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুব্রত। বাংলা রাজনীতিতে প্রবাদ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারের চাণক্য হলেন সুব্রত। মূলত তাঁর হাত ও পরামর্শেই বাংলার রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান!
১৯৯৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সদ্য প্রয়াত এই তৃণমূল নেতা।

তৃণমূলে ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরা।
এরপর ২০০৫ সালেই তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তৃণমূল ছেড়ে আবার কংগ্রেসে ফেরেন সুব্রত। এরপর ২০১০ পর্যন্ত কংগ্রেসের হয়ে একাধিক নির্বাচন এবং একবার বাঁকুড়া থেকেও সাংসদ নির্বাচন লড়ে পরাজিত হন। এরপর ২০১১তে আবার তৃণমূলে ফেরেন তিনি৷

২০১১-র পর, তৃণমূলের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়
এগারোর মমতা ঝড়ে বামদূর্গ উড়ে যায়। সে সময় বালিগঞ্জ বিধানসভা থেকে লড়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে মমতা অধীনে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। এবং পরে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি সুব্রত
২০১২ সালে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করেন মমতা। ২০১৯ এ বাঁকুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকারের কাছে লোকসভা নির্বাচন হারেন সুব্রত। তবে ২০২১-এ বালিগঞ্জ বিধানসভা থেকে বড় ব্যবধান জয় লাভ করেছিলেন তৃণমূলের প্রয়াত নেতা সুব্রত।

নারদা কাণ্ড ও জেল যাত্রা!
কয়ে কবছর আগে নারদা ঘুষ কাণ্ডে নাম জড়ায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। এবং ২০২১এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পর তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল৷ সে সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন৷

প্রয়াণ
২৪ অক্টোবর থেকে জটিল শারিরীক সমস্যা নিয়ে এসএসকেএম-এ ভর্তি ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বেশ কিছুদিন বাইপ্যাপ-এ ছিলেন সুব্রত বাবু। এরপর তিনি কিছু সুস্থ হন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তাঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যা হওয়ার কারণে তাঁকে আইসিইউতে সরানো হয়েছিল। এরপরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে নাগাদ প্রয়াত হন রাজ্যের এই প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত।












Click it and Unblock the Notifications