স্ত্রী ও শ্যালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালাতেন বাকিবুর, লেনদেন হত কোটি কোটি টাকা
নিজের অ্যাকাউন্ট তো বটেই। স্ত্রী ও শ্যালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বাকিবুর রহমান ব্যবহার করতেন। এমনই তথ্য উঠে আসছে ইডির তদন্তে। আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই শ্যালক অভিষেক বিশ্বাসকে জেরা করেছে। বাকিবুরের স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার তথ্য সেখান থেকেই পাওয়া গিয়েছে।
গভীর জলের মাছ বাকিবুর রহমান। তার কার্যক্রম দেখে রীতিমতো অবাক হতে হয়। গত ১০ বছরে রকেটের গতিতে উত্থান এই বাকিবুর রহমানের। চালকল থেকে বিলাসবহুল হোটেল! কী নেই তার সম্পত্তির মধ্যে! এছাড়াও নগদ টাকার সন্ধানও পাওয়া যেতে পারে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ইডির আধিকারিকরা এই দুই ব্যক্তির ব্যাঙ্কের নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকেও। নজর ঘোরাতেই কি এই দুই অ্যাকাউন্টকে বেছে নেওয়া হয়েছিল? এমন আর কত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন বাকিবুর রহমান? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।
তদন্তকারীরা যেসব তথ্য পাচ্ছেন, তা চোখ কপালে তোলার মতো। উত্তর চব্বিশ পরগনা ও নদিয়ায় রীতিমতো রেশন দুর্নীতির সিন্ডিকেট চলত। তার অন্যতম বড় মাথা এই বাকিবুর। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে কামিয়েছেন তিনি। বিরোধীদের এমনই অভিযোগ। এই ব্যক্তির সম্পত্তিও দুর্নীতির টাকায় বড় হয়েছে। একথা মনে করা হচ্ছে।
বাকিবুর রহমানকে সংবাদ মাধ্যম প্রশ্ন করেছিল। সেইসময় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন তিনি। কোনও দুর্নীতির তিনি জড়িত নন। এ কথা জানান। কিন্তু এত বিত্তবান তিনি হয়ে উঠলেন কীভাবে? এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ইডির আধিকারিকরা ৫৩ ঘণ্টা তার বাড়িতে খানাতল্লাশি চালিয়েছিলেন। বহু নথি পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকে।
ধৃতের কৈখালির ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ১০০ টির বেশি সরকারি স্ট্যাম্প পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও আরও অন্যান্য সংস্থার স্ট্যাম্প পাওয়া গিয়েছে। অন্যান্য সরকারি দফতরের ১০৯ টি স্ট্যাম্প পাওয়া গিয়েছে। এই সংস্থাগুলি খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত দফতরের সঙ্গে জড়িত বলে খবর।
বাকিবুর রহমানের স্ত্রী ও শ্যালক জানিয়েছেন, তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হত। কোটি কোটি টাকার লেনদেন বাকিবুর করেছেন। আধিকারিকরা এখন সেইসব তথ্য খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন। অনুমান করা হচ্ছে, আরও এমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতে পারে। আরও আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়ে থাকতে পারে।
ইডি হেফাজতে বাকিবুর রহমান রয়েছেন। তাকে জেরা করা হচ্ছে। কতটা তথ্য তদন্তকারীরা প্রথম দফার জেরা থেকে তুলে আনবেন? নতুন কোন তথ্য সামনে আসবে? সেই চর্চা চলছেই।












Click it and Unblock the Notifications