কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে অভিষেকের উপর হামলা! ত্রিপুরাতে ক্ষমতায় আসবই, আত্মবিশ্বাসী মমতা
ত্রিপুরা ইস্যুতে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। রবিবার রাতেই দেবাংশু, জয়া, সুদীপ রাহাকে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। এই মুহূর্তে তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
ত্রিপুরা ইস্যুতে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। রবিবার রাতেই দেবাংশু, জয়া, সুদীপ রাহাকে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। এই মুহূর্তে তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তাদের অবস্থার কথা শোনার পরেই হাসপাতালে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। মাত্র ৮ মিনিট সেখানে ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আহত তৃণমূল নেতৃত্বের শারীরিক বিষয়ে ডাক্তারদের সঙ্গেও কথা বলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি।

Recommended Video
তবে এসএসকেএম থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ত্রিপুরা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেখানে দানবীয় সরকার চলছে। তবে সেখানেও পরিবর্তন ঘটবে। আর তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠা করবে বলে এদিন আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর সাফ বক্তব্য, বেশিদিন এভাবে চলতে পারে না। পরিস্থিতির বদল ঘটবেই। তবে এদিন আরও এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অভিষেকের উপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিপ্লব দেবের নাকি এই সব করার সাহস নেই বলেও মনে করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাড় সাফ বক্তব্য, "আমি নিশ্চিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই সব হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর এত সাহস নেই। যারা অত্যাচার করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু হয়নি।"
এমনকি সে রাজ্যে অভিষেকের প্রাণসংশয় রয়েছে বলেও সোমবার আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরাতে কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। কোনও রকমে একটা বুলেটপ্রুফ গাড়ি দিয়েছে আর তা না দিলে যেভাবে লাঠি এসে পড়েছে তাতে ওর মাথাটা চৌচিড় হয়ে যেত বলে আশঙ্কা তাঁর। তবে এই সমস্ত কিছু করে তৃণমূলকে রোখা যাবে না বলে এসএসকেএম থেকেই হুঁশিয়ারি ছুঁড়লেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
এদিন মমতা বলেন, যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপি আছে সেখানে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। অসমে পর্যন্ত তৃণমূলকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তৃণমূলকে। এনআরসি'র সঙ্গে দল পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু বিমানবন্দরেই ওদের আটকে দেওয়া হয়। এটা কি চলছে? প্রশ্ন তৃণমূল সুপ্রিমোর। অন্যিদিকে জয়া, সুদীপকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছে ওদের শারিরক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, '' যেভাবে মারধর করা হয়েছে, পাথর মারা হয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা ভয়ঙ্কর। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ওদের মারা হয়েছে। '' শুধু তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, থানার মধ্যে ওদের আটকে রেখে জল পর্যন্ত ৩৬ ঘন্টা দেওয়া হয়নি। কোনও চিকিৎসা পর্যন্ত করা হয়নি। ত্রিপুরা পুলিশের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা।
তিনি বলেন, '' ওরাই আমাদের প্রতিনিধিদের মারে, তারপর গ্রেফতার করে।'' আর যারা অশান্তি করল, ওদেরকে মারল তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত নেওয়া হল না বলে দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
তবে ত্রিপুরা যে আগামী বিধানসভাতে তৃণমূল টার্গেট। তা এদিন সাফ বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর মন্তব্য, ত্রিপুরাতেও বিজেপি অপশাসনের পতন ঘটবে।












Click it and Unblock the Notifications