নবান্ন অভিযানে অশান্তি! দিন্দাদের পুলিশি তলব, কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?
অভয়ার বাবা-মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে নবান্ন অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির বিধায়ক থেকে শুরু করে নেতা-কর্মীরা। এই অভিযান সফল করতে তৎপরতা দেখানোর পাশাপাশি সামনের সারিতে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মিছিল কিড স্ট্রিটের কাছে পৌঁছতেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশের লাঠির আঘাতে অভয়ার মায়ের পাশাপাশি শতাধিক মানুষ আহত হন বলে অভিযোগ। সেই অশান্তির ঘটনায় এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি এবার পুলিশ তলব করল প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দাকে। অর্জুন সিং, সজল ঘোষের মতো বিজেপি নেতাদের কাছেও পুলিশের তরফে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ পৌঁছেছে বলে খবর।
দিন্দাকে ১৭ অগাস্ট নিউ মার্কেট থানায় তলব করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দিন্দা পুলিশ অফিসারদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের নিগ্রহ করতে অনেককে প্ররোচিত করেছেন। এক আইএএস অফিসারের নিরাপত্তারক্ষীকে হেনস্থাও করেছেন। সে কারণেই তাঁকে নিউ মার্কেট থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এ বিষয়ে বলেন, এটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল, গণ প্রতিবাদ। অভয়ার বাবা-মায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীরা দলের পতাকা ছাড়াই মিছিলে গিয়েছিলেন। দিল্লিতে যাঁরা ধরনা দিয়ে নাটক করছেন, কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে যাচ্ছেন, হঠাৎ সচেতন হয়ে যাচ্ছেন, আর কলকাতায় অভয়ার মায়ের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির লোকেরা মিছিল করলে তাঁদের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ফলে এটা স্পষ্ট বাংলায় গণতন্ত্র নেই। গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারগুলি বাজেয়াপ্ত করছে সরকার। যাকে জঙ্গলরাজ বললেও কম বলা হয়। চূড়ান্ত নৈরাজ্যের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছি আমরা।
এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেছেন, একজন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়লে এক লক্ষ লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও করা হবে। এ প্রসঙ্গে শমীক বলেন, উনি এর আগেও কী একটা বিষয়ে ২৫ লক্ষ লোক নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। রাজনীতিতে এ সব চলে, বলতে হয়। ওঁরা জানেন কী হতে চলেছে, কী হবে। ওঁরা আসল সত্যটাও জানেন যে ভোটার তালিকায় কত রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি, জামাতিদের নাম রয়েছে। কত মৃত ভোটারের নাম কাটা হয়নি। একজন লোকের নাম অনেক জায়গায় ঢোকানো আছে। সল্টলেক-সহ অনেক জায়গাতেই খালি প্লটে হোল্ডিং নম্বর দিয়ে ভোটার তৈরি করা হয়েছে। ফলে উনি যা বলছেন তা পরাজিতদের আর্তনাদ।
ভোটার লিস্টে গরমিল থাকলে লোকসভা ভেঙে দেওয়ার যে দাবি অভিষেক তুলেছেন তা নিয়ে শমীকের জবাব, কংগ্রেস কর্ণাটক, হিমাচল, তেলঙ্গানায় সরকার ভেঙে দিক। মুখ্যমন্ত্রী নিজে পদত্যাগ করুন। তাই বলে ভোটার তালিকায় রিভিসন হবে না? মৃত ভোটার নিয়ে বলা হবে তিনিও কারও বাবা, জ্যাঠা ছিলেন, তাই মানবিক মুখ দেখিয়ে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রাখা যায় না? কতদিন চলবে এই নাটক?












Click it and Unblock the Notifications