এসআর শিপ ছাড়ছেন অনিকেত মাহাতো, অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ‘চিকিৎসক জীবন ধ্বংস'
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এখনও পোস্টিং না পাওয়ায় চরম সিদ্ধান্ত নিলেন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। রাজ্য সরকারের অধীনে আর এসআর শিপ করবেন না বলে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করলেন তিনি। অনিকেতের কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ, তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি করে রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে তাঁর চিকিৎসক জীবন শেষ করতে চাইছে।
এদিন অনিকেত বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও পোস্টিং না পাওয়াটা শুধুই প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর কথায়, রাজনীতির প্রতিহিংসা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে ভবিষ্যতে পোস্টিং পেলেও স্বাধীন ও দায়বদ্ধ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা সম্ভব হবে না। সেই কারণেই রাজ্য সরকারের অধীনে এসআর শিপ ছেড়ে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এসআর শিপ পোস্টিং বাতিল করতে হলে সরকারকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। সেই প্রসঙ্গে অনিকেত জানান, প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে। আর সেই অর্থ সংগ্রহের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি। তাঁর আহ্বান, যাঁরা এতদিন তাঁর লড়াইয়ের পাশে ছিলেন, তাঁরা যেন এই সংকটের সময়েও পাশে থাকেন।
একই সঙ্গে অনিকেত স্পষ্ট করে দেন, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নিহত মহিলা চিকিৎসকের ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁর লড়াই থামবে না। সেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে সকলের সমর্থন আগের মতোই প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ খুনের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে যে প্রতিবাদ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তার অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন অনিকেত মাহাতো। গত মে মাসে হঠাৎ করেই তাঁকে আরজি কর থেকে সরিয়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে পোস্টিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অনিকেত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর যুক্তি ছিল, যোগ্যতা ও মেধাতালিকা থাকার পরও যদি পছন্দের পোস্টিং না পাওয়া যায়, তবে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার অর্থ কী? মামলায় রাজ্যের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু স্পষ্ট নির্দেশ দেন, রায়গঞ্জ নয় অনিকেতকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজেই পোস্টিং দিতে হবে। রাজ্য সরকার সেই রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। কিন্তু বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার, সেখানেও হার মানতে হয়।
সব স্তরের আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও অনিকেত মাহাতোর পোস্টিং এখনও ঝুলে রয়েছে। সেই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মাঝেই এসআর শিপ ছাড়ার ঘোষণা করে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications