অসহনীয় অত্যাচার! মুর্শিদাবাদ নিয়ে রিপোর্ট দেবে NCW; কত মহিলার সঙ্গে দেখা করেছে সরকার? প্রশ্ন চেয়ারপার্সনের
NCW at Murshidabad: হিংসায় বিধ্বস্ত মুর্শিদাবাদ ঘুরে দুর্গত মহিলা ও শিশুদের অভাব অভিযোগ শুনল জাতীয় মহিলা কমিশন। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকার জানালেন, রাজনীতি না করে রাজ্য সরকারের উচিত দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে কয়েকদিনের মধ্যেই রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে জানালেন তিনি।
NCW-র চেয়ারপার্সন বলেন, "২ দিনে অনেক মহিলাদের সঙ্গে ও বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করেছি। অনেক বড় ঘটনা ঘটেছে। ওদের উপর অসহনীয় অত্যাচার হয়েছে। এত কষ্ট দেখেছি, জীবনে ভুলতে পারব না। সাম্প্রদায়িক হিংসার সবচেয়ে বাজে প্রভাব মহিলা ও শিশুদের উপরেই পড়ে। ওদের ঘর লুট হয়ে গিয়েছে। হুমকি ধমকি দিয়েছে। ভয় দেখানো হয়েছে। মহিলাদের শারীরিক ও মানসিক আঘাত হয়েছে। নিজের গ্রামেই নির্বাসিত ওরা।"

আক্রান্তদের আস্থা ফেরাতে প্রচুর কাজ করতে হবে বলে জানান বিজয়া রাহাতকার। তাঁর দাবি, "গ্রামের মহিলারা জানিয়েছেন বিএসএফই একমাত্র ওদের সাহায্য করেছে। আজ বিএসএফের কারণেই ওনারা জীবিত রয়েছেন। অনেক মহিলা আবার বলছেন তাদের স্বপ্ন পুড়ে গেছে, বাড়ি পুড়ে গেছে, সর্বস্ব পুড়ে গেছে। কিছুই বেঁচে নেই। একমাত্র সম্ভ্রমটুকু রয়েছে। তাই বিএসএফের এখানে থাকা দরকার।"
জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের স্পষ্ট বার্তা, "রাজনীতি করব না। তিনদিন ধরে আছি। কোনও রাজনীতিকের সঙ্গে কথা বলিনি, বলার দরকারও নেই। আমি এসেছি দুর্গত মা বোনেদের সঙ্গে কথা বলতে। গুজব না ছড়িয়ে মা বোনেদের পাশে দাঁড়ান। কী সমস্যা হচ্ছে, জিজ্ঞেস করুন। যারা নির্দোষ, তাদের সঙ্গে কেন এরকম হল? সেনিয়ে তদন্ত করা উচিত? মুখ্যমন্ত্রী কী বলছেন জানি না, তবে এই বিষয়ে রাজনীতি হওয়া উচিত না।"
বিজয়া রাহাতকার বলেন, "মহিলাদের টেনে হিঁচড়ে দুষ্কৃতীরা ধমকি দিয়েছে। বলা হয়েছে, কোলের মেয়েকে পাঠিয়ে দিতে। মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সরকার কতজনের পাশে দাঁড়িয়েছে? সরকার কত মহিলার সঙ্গে দেখা করেছে? সুরক্ষার জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে? ভয়ের জন্য কতদিন বাইরে থাকবেন এই মহিলারা? ওখানে ভয়ের পরিবেশ শেষ করতে যা যা করণীয় তা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। ৮ দিন হয়ে গিয়েছে, রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিক।"
ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব চলেছে মুর্শিদাবাদে। ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবার এখনও আশ্রয়হীন। মহিলারা এক কাপড়ে মুর্শিদাবাদ ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে মালদহে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। শুক্রবার মালদহ ও শনিবার মুর্শিদাবাদের নানা জায়গায় ঘুরেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। তাদের কাছে হাউ হাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলারা। মাটিতে শুয়ে কাঁদতে দেখা যায় দুর্গতদের।












Click it and Unblock the Notifications